
রাজ্যে ২৫২ টি অনুমোদনহীন মাদ্রাসাকে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আরও ১০০টি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ায় কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্ত ঘিরে দেখা দিয়েছে বিতর্ক। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছে। এবিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, "অস্তিত্বহীন মাদ্রাসা থাকলে বলব না যে অনুমোদন দিন। আমাদের ভাঙরেও এই রকম তিনটে আন এইডেড মাদ্রাসা আছে। কিন্তু, কিছু অস্তিত্বহীন মাদ্রাসাকে সামনে রেখে সরকার যদি গোটা মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকেই উঠিয়ে দিতে চায়, তাহলে বলব এটা প্রতিহিংসার রাজনীতি হচ্ছে।"
ভাঙড়ের বিধায়ক বলেন, "মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষকে বলব কাগজ নিয়ে প্রয়োজনে আমাদের কাছে আসুন। আমরা বিনামূল্যে মামলা লড়ে দেব।" একইসঙ্গে নওশাদের সংযোজন, "খারিজি মাদ্রাসায় গিয়ে দেখুন কী বিভাজন মূলক শিক্ষা হয়। সিসিটিভি লাগান না। দেখতে পারেন কী হচ্ছে ক্লাস রুমে।"
বিজেপিকে নিশানা করে নওশাদ দাবি করেন, বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকার সবসময় চাইবে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রোপাগন্ডা চালানো। এই প্রোপাগন্ডাকেই উন্নয়ন বলে চালিয়ে দেবে। এখন কিছু অস্তিত্বহীন মাদ্রাসাকে সামনে রেখে পুরো মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে কালিকালিপ্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিধায়কের প্রশ্ন, পরিকাঠামোর অভাবের জন্য যদি কোনও মাদ্রাসাকে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে সেখানে পাঠরত ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ কী হবে? TMC সরকারের আমলেই রাজ্যে অনুমোদনহীন মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়েছে বলেই দাবি করেন তিনি।
এদিকে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন এবং কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটের আগে এই মাদ্রাসা বন্ধের বিষয়টিকে ঘিরে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীদের চাপের কাছেও এই সরকার যে বিষয়টি নিয়ে পিছু হটবে না তা কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রথম সারির মন্ত্রীদের কথা থেকেই।