
হাতে গোনা কয়েকটা দিন। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্য সফর করে যাওয়ার পরই সম্ভবত ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় ইস্যুতে ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের একাংশের ভোটার। তাঁদের দাবি, 'নো ফ্লাইওভার, নো ভোট।' অর্থাৎ ফ্লাইওভার না হলে ভোট নয়। স্থানীয় সমস্যার দীর্ঘদিন ধরে কোনও সমাধান হয় না। ভোট এলেই রাজনৈতিক নেতারা এসে প্রতিশ্রুতির বন্যা বইয়ে দেন। কিন্তু ভোট মিটে গেলেই সবকিছু ভুলে যান তাঁরা। যার ফলে সেই সমস্যার আর কোনও সমাধান হয় না। তাই এবার ফ্লাইওভার না হলে ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছেন ওই এলাকার মানুষ। 'নো ফ্লাইওভার, নো ভোট' স্লোগান তুলে ব্যানারও লাগিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ভোটের মুখে যা স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে।
শনিবার, সাতই মার্চ সকাল থেকেই পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড় রেলপাড়, ট্যাঙ্কিতলা, সারদাপল্লি, কাঁকসার আনন্দপুর, সিলামপুর, আয়মা, কেটেন সহ প্রায় ১৫টি গ্রামের বিভিন্ন মোড়ে এই পোস্টার দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানাগড় বাজারের ৩ নম্বর রেলগেট দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারণে প্রতিদিনই ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। স্কুল-কলেজ বা অফিসে যেতে বহুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। বাসিন্দাদের দাবি, রেলগেট বন্ধ থাকায় অনেক সময় অ্যাম্বুল্যান্স-সহ রোগীবাহী গাড়িও আটকে পড়ে। অতীতে কয়েকটি ক্ষেত্রে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছতে না পারায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ। ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে বহুবার আন্দোলন হলেও এখনও পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। স্থানীয়দের বক্তব্য, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে তৎকালীন সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া ফ্লাইওভার নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে বর্তমান সাংসদ কীর্তি আজাদ এলাকাটি পরিদর্শন করে একই প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বাস্তবে কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এবার ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক চাপান উতোর। ভোট বয়কটের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন কাঁকসা ব্লক কংগ্রেস সভাপতি পূরব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে সেগুলি আর বাস্তবায়িত হয় না। তাই ফ্লাইওভার নির্মাণ না হলে ভোটদান থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত সঠিক বলেই মনে করছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, দেশে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কথা বলা হলেও পানাগড়ের মানুষ এখনও রেলগেটে আটকে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য সমীর বিশ্বাস জানান, সমস্যার বিষয়ে প্রশাসন অবগত। তিনি বলেন, বর্ধমান–দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কীর্তি আজাদ ইতিমধ্যেই ফ্লাইওভার নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পানাগড় স্টেশন সংলগ্ন ৩ নম্বর রেলগেটের উপর ফ্লাইওভার নির্মাণ হলে বহু মানুষের উপকার হবে বলেও তিনি জানান।
যদিও বিজেপির দাবি, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই ইস্যু উত্থাপন করা হচ্ছে। বর্ধমান সদরের বিজেপি জেলা সহ-সভাপতি রমন শর্মা অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষকে শাসক দল পিছন থেকে উসকানি দিয়ে এই পোস্টার লাগানোর কাজ করাচ্ছে। তাঁর দাবি, বিজেপি সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়াই প্রথম রেলমন্ত্রকের কাছে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবি তোলেন। কিন্তু জমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে কাজ এগোয়নি এবং এর দায় রাজ্য সরকারের উপরেই বর্তায়। এদিকে পানাগড়ের ৩ নম্বর রেলগেটের সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদান থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, যা ইতিমধ্যেই এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রিপোর্টারঃ অনিল গিরি