
আলুচাষিদের দুর্দশা কিছুতেই কাটছে না। চাষিদের দুশ্চিন্তা এখন পোখরাজ আলু নিয়ে। কোল্ডস্টোরেজে এখনও প্রচুর আলু মজুত রয়েছে। সেগুলি আদৌ বিক্রি হবে কিনা, তা নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগে কৃষকরা। কারণ পোখরাজ আলুর বিক্রির পরিমাণ বেশ কম। সেই তুলনায় বাজারে বেড়েছে জ্যোতি আলুর চাহিদা।
হিমঘরে মজুত আলুর পরিমাণ প্রায় ৮ থেকে ৯ শতাংশ বেশি
'বর্তমান' সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর হিমঘরে মজুত আলুর পরিমাণ প্রায় ৮ থেকে ৯ শতাংশ বেশি। এই পরিস্থিতিতে বেশি ফলনেও আশঙ্কার কালো মেঘ দেখছেন কৃষকরা। হাইব্রিড বীজ চাষিদের কাছে চলে আসায় আলুর উৎপাদন বেড়েছে। ভারতের আলু উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন ও হিমঘরে মজুত রাখার খরচও তুলতে পারছেন না চাষিরা। হুগলি থেকে মুর্শিদাবাদ, পরিস্থিতি একই।
বিরাট ক্ষতির প্রমাদ গুনছেন আলু কৃষক থেকে ব্যবসায়ীরা
কৃষকদের দাবি, হিমঘরে আলু পৌঁছনো পর্যন্ত অর্থাৎ বস্তা বা পরিবহণসহ নানা খরচ মিলিয়ে বস্তাপিছু প্রায় ৯০ টাকা করে খরচ হয়েছে। অথচ সেই আলুর বন্ড ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে বস্তাপিছু মাত্র ১০০ থেকে ১২০ টাকা মিলছে। ফলে বস্তাপিছু লাভ মাত্র ১০ থেকে ৩০ টাকা। মুর্শিদাবাদ জেলায় আটটি হিমঘরে সেপ্টেম্বর মাস শেষ হতে গেলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৪৬ শতাংশ আলু খালি হয়েছে। এরই মধ্যে আবার অক্টোবরে আলু চাষ শুরু হলেই ডিসেম্বরে নতুন আলু বাজারে চলে আসবে। তাহলে কোল্ডস্টোরেজের মজুত আলুর কী হবে? বিরাট ক্ষতির প্রমাদ গুনছেন আলু কৃষক থেকে ব্যবসায়ীরা।
আলুর উত্পাদন বৃদ্ধির জেরে সঙ্কট
বাজারে চাহিদার তুলনায় আলুর জোগান বেড়ে গিয়েই বিপত্তি। চাষি ও ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, পোখরাজ বীজ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন অনেকটাই বেড়েছে। সাধারণত কাঠাপ্রতি ৫ থেকে ৬ বস্তা আলু উৎপাদন হলেও এবছর তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১২ বস্তা। ফলে দামও পড়ে গিয়েছে। আলু ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্যোতি আলু কম দামে পাচ্ছেন ক্রেতারা, ফলে পোখরাজ বা হাইব্রিড আলু বিক্রি হচ্ছে না।
প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির হিসাব বলছে, এ বার রাজ্যের হিমঘরগুলিতে গড়ে ৫০ কেজির প্রায় ১৬ কোটি বস্তা আলু মজুত রাখা হয়েছিল। প্রতি বছর অগাস্টের মধ্যে ওই মজুত আলুর ৫০ শতাংশ বেরিয়ে যায়। কিন্তু এ বার এখন পর্যন্ত বার করা হয়েছে ৩৯.৮৭ শতাংশ।