
দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। বাংলাতেও এবার বর্ষার বিদায়ের পালা। তবে খাতায় কলমে বর্ষা চলে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরুর কথা থাকলেও কলকাতায় বৃষ্টি। রবিবার দুপুরে কলকাতায় মুষলধারে বৃষ্টি নামে। দফায় দফায় ভারী বর্ষণ চলে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস,আজ রবিবার দুপুরের পর বিকেল ও রাতের দিকেও বৃষ্টি হতে পারে শহরে। সেজন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৮ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে আজ রাতে বৃষ্টি হতে পারে। বিকেলেও। ফলে পুজোর আগে শেষ মুহূর্তের শপিং প্ল্যান নিয়ে কিছুটা চিন্তায় শহরবাসী।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি হবে। তবে খুব বেশি নয়। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় রবিবার হালকা বৃষ্টি হতে পারে। সোমবারও আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে, সঙ্গে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ তৈরি হতে পারে। বুধবার কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। তবে শনিবার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা আরও কমবে।
অর্থাৎ, বর্ষা বিদায়ের আগে একেবারে শুষ্ক হয়ে যাচ্ছে না কলকাতা। বরং মাঝেমধ্যে স্থানীয়ভাবে মেঘ তৈরি হয়ে বৃষ্টি নামতে পারে। তবে আপাতত দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টির কোনও ইঙ্গিত নেই। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে কলকাতার কিছু অংশে আচমকা জোরে বৃষ্টি হলেও সেই বৃষ্টি ছিল মূলত স্থানীয় এবং স্বল্পস্থায়ী। আবহাওয়া দফতরও জানিয়েছে, শহরে বড় কোনও আবহাওয়া ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তৃত এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
উত্তরবঙ্গে আপাতত বৃষ্টির দাপট দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় বেশি। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং কালিম্পংয়ের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া এবং বজ্রপাতের সতর্কতা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গেও অবশ্য পুরোপুরি স্বস্তি এখনও নয়। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও নদিয়ার কিছু এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। ওই জেলাগুলির দু-এক জায়গায় ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে। তবে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা নেই।
তাহলে পুজোর সময় কী হবে?
এটাই এখন বাঙালির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। মহালয়া ১০ অক্টোবর। মহাষষ্ঠী ১৬ অক্টোবর। অর্থাৎ তার আগেই বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক ইঙ্গিত অনুযায়ী, ৮ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা সরে যেতে পারে। ফলে পুজোর মুখে আবহাওয়া অনেকটাই শুকনো হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। পুজোর এখনও প্রায় দু'সপ্তাহ বাকি। ফলে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবরের ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিনের নির্দিষ্ট বৃষ্টির পূর্বাভাস এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিকও জানিয়েছেন, পুজোর দিনগুলিতে আবহাওয়া ঠিক কীভাবে থাকবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়।
কারণ, বর্ষা বিদায়ের জন্য নির্দিষ্ট কিছু আবহাওয়াগত শর্ত পূরণ হওয়া জরুরি। কোনও এলাকা থেকে মৌসুমি বায়ু সরে যাওয়ার আগে কয়েকদিন বৃষ্টির প্রবণতা কমতে হয়, আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করে এবং নিম্নস্তরের বাতাসের গতিপথেও পরিবর্তন আসে। শুধু বৃষ্টি কমলেই বর্ষা বিদায় নিয়েছে, এমনটা বলা যায় না। তাই ৮ থেকে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা সরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, সেটি এখনই নিশ্চিত নয়। বিশেষ করে পুজোর সময় অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে দশমীর আবহাওয়া এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি এবং মৌসুমি বায়ুর অবস্থান দেখেই পুজোয় বৃষ্টি হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে।
কলকাতায় আগামী সাত দিনের পূর্বাভাসও সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। রবিবার হালকা বৃষ্টি, সোমবার মেঘলা আকাশ ও হালকা বৃষ্টি, মঙ্গলবার বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা এবং বুধবার মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রঝড় হতে পারে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারও বজ্রবিদ্যুৎ তৈরি হতে পারে। শনিবার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।