
সীমান্ত পার করে চলে এসেছিল ভারতে। তারপর এ দেশেই কাজ করে বহাল তবিয়তে কাটাচ্ছিলেন ৭ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী। শেষমেষ রাজ্যে কড়াকড়ি হতেই বাংলাদেশে ফিরতে গিয়ে পুলিশের হাতে পাকড়াও হলেন ৭ অভিযুক্ত।
লালগোলা পুলিশের দাবি, গোপন সূত্রে তাঁদের কাছে খবর ছিল, কিছু লোক অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছে। এরপরে পুলিশ দল বয়রা-মিরপুরের মাঠে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সকলেই নিজেদের বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়।
পুলিশের দাবি,এই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরেই চেন্নাইয়ে শ্রমিক ও নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, তারা বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। আর তখনই তাঁদের পাক়়ড়াও করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তেরা সবাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তাদের পরিচয় ও কাগজপত্র যাচাই করার কাজ করছে পুলিশ। একইসঙ্গে এই ঘটনায় কোনও চোরা চালান চক্র বা মানব পাচারকারী চক্র জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আটক ব্যক্তিদের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠাতে পারে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত কয়েকমাস ধরেই সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে মুর্শিদাবাদ পুলিশ। তার ফলও মিলেছে হাতেনাতে। এদিন সাত জনের গ্রেফতারি ছাড়াও, গত সপ্তাহে লালগোলায় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে ঢোকা ৫ অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
গত সপ্তাহে বৃহস্পতিবার রাতে লালগোলা থানার অন্তর্গত পদ্মা নদীর তীরবর্তী পণ্ডিতপুর আমবাগানে বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। লালগোলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অমিত ভকতের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে হানা দিয়ে ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পাকড়াও করে। জিজ্ঞাসাবাদে কোনও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা। শুধু তাই নয় অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের বিষয়টি স্বীকারও করে নেয় ওই বাংলাদেশিরা। এরপরেই তাদের থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করার পর অন্য রাজ্যে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তৎপরতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে তাদের প্ল্যানে জল ঢেলে দেয় পুলিশ। এক্ষেত্রেও ধৃতদের হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।