Advertisement

South Bengal Monsoon Rain : বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপ, বর্ষা বিদায়ের আগে দক্ষিণবঙ্গে ফের ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস

বর্ষার কালো মেঘ সরছে না পশ্চিমবঙ্গের আকাশ থেকে। দেশ থেকে বর্ষা কার্যত বিদায় নেওয়ার পালা শুরু করলেও এই রাজ্যে এখনও সক্রিয়। ফলে ফের বৃষ্টির পূর্বাভাস।

ছবি : PTI ছবি : PTI
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 09 Sep 2026,
  • अपडेटेड 8:08 PM IST
  • দেশের বিস্তীর্ণ অংশে গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টি অনেকটাই কমেছে
  • তবে পশ্চিমবঙ্গে ফের বৃষ্টি হতে পারে

দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বর্ষা বিদায় নেওয়ার মুখে। আকাশ ক্রমশ পরিষ্কার হচ্ছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। এই রাজ্যে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ১০ সেপ্টেম্বর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে চলা নতুন একটি আবহাওয়া ব্যবস্থা পূর্ব ও মধ্য ভারতের আরও কিছু অংশে ফের বৃষ্টি হতে পারে। 

IMD জানিয়েছে, এর মধ্যেই দেশের বিস্তীর্ণ অংশে গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টি অনেকটাই কমেছে। স্যাটেলাইট ছবিতেও ভারতের প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ এলাকায় মেঘের আচ্ছাদন নেই বলে দেখা যাচ্ছে। ফলে অনেক জায়গাতেই আকাশ পরিষ্কার এবং আবহাওয়া তুলনামূলক শুষ্ক। কিন্তু এই পরিস্থিতিকে বর্ষা বিদায়ের চূড়ান্ত সঙ্কেত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। 

বঙ্গোপসাগরে কী তৈরি হচ্ছে?

IMD-র সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর আন্দামান সাগর এবং সংলগ্ন এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি উচ্চস্তরের ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। এর প্রভাবে মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর একটি নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়া ব্যবস্থা প্রায় ১১ সেপ্টেম্বর নাগাদ উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের সংলগ্ন এলাকাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সেদিন বৃষ্টি হতে পারে পশ্চিমবঙ্গেও। 

ফলে বঙ্গোপসাগরের এই নতুন সিস্টেম পূর্ব ভারতের আবহাওয়ায় ফের সক্রিয়তা আনতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র তীরবর্তী জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী এবং ওড়িশায় বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। 

বর্ষা শেষ কবে?

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় এবং আকাশ পরিষ্কার থাকায় অনেকের মনে হতে পারে, বর্ষা বুঝি বিদায় নিয়েছে। কিন্তু শুধু বৃষ্টি কমে যাওয়া বা আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার অর্থ বর্ষা প্রত্যাহার নয়। বর্ষা বিদায় নিয়েছে সেই ঘোষণার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে IMD। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে বর্ষা প্রত্যাহারের ঘোষণা করার আগে একাধিক শর্ত পূরণ হওয়া প্রয়োজন।

IMD-র নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমত টানা পাঁচ দিন বৃষ্টি বন্ধ থাকা দরকার। পাশাপাশি বায়ুমণ্ডলের নিচেরস্তরে একটি অ্যান্টিসাইক্লোনিক সার্কুলেশন বা প্রতিঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে হবে। একই সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে হবে। শুধু একটি জায়গায় এই পরিস্থিতি তৈরি হলেই হবে না। বর্ষা প্রত্যাহারের পরবর্তী ধাপগুলির ক্ষেত্রেও এই পরিস্থিতির ভৌগোলিক ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন।

Advertisement

দেশের বড় অংশে এখন পরিষ্কার আকাশ

সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বৃষ্টির পর দেশের একটা বড় অংশে এখন আবহাওয়ায় সাময়িক বিরতি দেখা যাচ্ছে। স্যাটেলাইট ছবিতে ভারতের প্রায় ৮০–৯০ শতাংশ এলাকায় মেঘের আচ্ছাদন নেই। মাটির পরিস্থিতিতেও তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে দেশের বেশিরভাগ জায়গায় ব্যাপকভাবে বৃষ্টি হয়নি। ফলে অনেক এলাকায় আকাশ পরিষ্কার এবং রোদ দেখা যাচ্ছে।

কিন্তু এই পরিষ্কার আকাশকে বর্ষার সম্পূর্ণ বিদায়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক হবে না। কারণ একই সময়ে বঙ্গোপসাগরের উপর নতুন করে আবহাওয়া সক্রিয় হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

ফের বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে

বর্তমান পরিস্থিতি থেকে যা ইঙ্গিত মিলছে, তাতে দেশের একাংশে বৃষ্টির সাময়িক বিরতির মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে নতুন আবহাওয়া ব্যবস্থা তৈরি হচ্ছে। সেই সিস্টেমই পূর্ব ও মধ্য ভারতের কিছু অংশে ফের বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ, এখন দেশের অনেক জায়গায় আকাশ পরিষ্কার থাকলেও দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু এখনও বৃহত্তর আবহাওয়া ব্যবস্থায় সক্রিয়। বর্ষা কবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবে, তা নির্ভর করবে IMD-র নির্ধারিত শর্তগুলি কবে পূরণ হচ্ছে তার উপর।

আগামী কয়েক দিন তাই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে দেশের বড় অংশে পরিষ্কার আকাশ ও বৃষ্টির বিরতি বজায় থাকে কি না, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হতে চলা নতুন নিম্নচাপ কতটা সক্রিয় হয়, তার উপরই নির্ভর করবে পূর্ব ও মধ্য ভারতের পরবর্তী বৃষ্টির পরিস্থিতি। যার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায় পড়তে পারে।

Read more!
Advertisement
Advertisement