
মঙ্গলবার ইতিহাস তৈরি হলো তারকেশ্বরে। এই প্রথমবার সন্ত শোভাযাত্রা ও সন্তসভা দিয়ে শুরু হলো তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলা। আর এই উপলক্ষে 'সন্ত সম্মেলনে' যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তারকেশ্বরে আজ থেকে শুরু হল শ্রাবণী মেলা। মেলা চলবে ২৮ অগাস্ট পর্যন্ত। এবার এই মেলাকেই জাতীয় মেলা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, আন্তর্জিতক তীর্থক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে তারকেশ্বর ধামকে।
তারকেশ্বর মন্দির থেকে কিছুটা দূরেই বৈদ্যপুর মাঠ। সেখানে তৈরি হয়েছিল বিশাল মঞ্চ। এই মঞ্চেই যোগ দন সাধুসন্তরা। মেলার শুভারম্ভের আগে তারকনাথ মন্দির থেকে বাওনাড়পাড় মাঠ পর্যন্ত বের হয় শোভাযাত্রা। প্রায় দুই হাজার সাধু, এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।
এই বছর শ্রাবণী মেলার বিশেষ আকর্ষণ থাকছে তারকেশ্বরে পায়ে হেঁটে আগত তীর্থযাত্রীদের উপর হেলিকপ্টার থেকে পুষ্প বৃষ্টি। এছাড়া ১৫ তারিখ থেকে তারকেশ্বর মন্দির সংলগ্ন রাজবাড়ি মাঠে মহারুদ্র যজ্ঞ চলবে পাঁচদিন ধরে।
মঞ্চে শুভেন্দু বলেন, 'শ্রাবণ মেলা উপলক্ষে শেওড়াফুলি-তারকেশ্বর পথে, প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর নির্দিষ্ট ব্যবধান অন্তর সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তারকেশ্বর ধামে আমরা প্রায় ১৫ কোটি ব্যয় করেছি আমাদের বাবা ধামকে সাজানোর জন্য। তারকেশ্বরে পুলিশ সহায়তা ক্যাম্প, মেডিকেল ক্যাম্প থাকছে। জল- ওআরএসও থাকবে যাত্রীদের জন্য। বিশ্রামের জায়গাও থাকবে। আধ্যাত্মিক চেতনার এই ভূমিতে যারা জলযাত্রী শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার হেলিকপ্টার থেকে ভক্তদের উপর পুষ্পবৃষ্টি করা হবে, যদি আবহাওয়া ভাল থাকে।'
প্রসঙ্গত, শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে এবার আলোর মালায় সেজেছে তারকেশ্বর মন্দির ৷ রাতে দুধ পুকুরে চলছে লাইট এন্ড সাউন্ড সহযোগে লেজার শো । অন্ধকারে পুকুরের জলে প্রতিফলিত হচ্ছে মহাদেবকে নিয়ে বিভিন্ন মনোরম দৃশ্য ৷ চন্দননগরের আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে বৈদ্যবাটি-তারকেশ্বর রোড । তারকনাথ মন্দিরের প্রবেশ দ্বারে গেট আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে । ১২ নম্বর রোডের উপর অবস্থিত মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার গেরুয়া, সাদা ও সবুজ তেরঙা আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে । রাত নামলেই গেট থেকে মন্দির পর্যন্ত রাস্তা জুড়ে আলোর রোশনাই চোখে পড়ছে । তার সঙ্গে বিশেষ পাওনা দুধ পুকুরে লাইট এন্ড সাউন্ড দিয়ে মহাদেবের মূর্তির থ্রিডি ছবি, যা লেজার শোয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যেখান থেকে পুণ্যার্থীরা বাঁকে করে জল নিয়ে আসেন, সেই নিমাই তীর্থ ঘাট-সহ বিভিন্ন ঘাট এবং তার আশপাশের এলাকাকেও নতুন করে সাজানো হয়েছে। যাতায়াতের সুবিধার্থে তারকেশ্বর-হাওড়া শাখায় সারা রাত লোকাল ট্রেন চালানো হবে। তারকেশ্বর থেকে চালু হচ্ছে 'মহাদেব এক্সপ্রেস' নামে বিশেষ বাস পরিষেবা। তারকেশ্বর থেকে হাওড়া, বর্ধমান, বাঁকুড়া, দিঘা এবং কলকাতা রুটে এই সরকারি বাস পরিষেবা চালু হচ্ছে।
ধর্মীয় পর্যটনের উন্নয়নে রাজ্য বাজেটে ঘোষিত ‘তীর্থক্ষেত্র সার্কিট’ প্রকল্পের কথাও এদিন তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মঠ, মন্দির এবং ধর্মীয় স্থানের সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের কিরীটেশ্বরী-সহ একাধিক প্রাচীন মন্দিরকে হেরিটেজের আওতায় আনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।