
২০ জুন, শনিবার তারকেশ্বর মন্দির সফরে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার আগেই জোর কদমে চলছে এই ঐতিহাসিক মন্দিরের ভোলবদলের কাজ। মন্দিরের নীল-সাদা রং বদলে ফেলা হচ্ছে। বরং গেরুয়া-সাদা রঙে সাজানো হচ্ছে গোটা মন্দির চত্বর। এভাবেই মন্দিরের সনাতনী রূপ ফিরিয়ে আনা বলে দাবি করছে মন্দির কমিটি।
মাথায় রাখতে হবে, এখনও পর্যন্ত এই মন্দিরের রং ছিল নীল-সাদা। তবে ২ জুন তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দিতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মনে করেছিলেন, মন্দিরের নীল-সাদা রং তার আধ্যাত্মিক মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এরপরই মন্দিরের সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি মন্দিরকে গেরুয়া-সাদা রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আর মন্দিংরের এই রং পরিবর্তনকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা, পুরোহিত এবং ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গিয়েছে। তাঁদের মতে, গেরুয়া রং মন্দিরের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিচয়কে আরও বেশি তুলে ধরে। এই রং হয়ে উঠবে তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রী সুমনা সরকার, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পানকে সঙ্গে নিয়ে মন্দিরে যান। সেখানে তাঁরা সাধারণ মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানান।
তাঁদের দাবি ছিল, গেরুয়া কোনও রাজনৈতিক দলের রং নয়। এই রংটি আধ্যাত্মিকতা, ত্যাগ এবং সনাতন সংস্কৃতির প্রতীক। তাই মন্দিরের রূপেও সেই ভাবধারার প্রতিফলন থাকা উচিত। সেই কারণেই তারকেশ্বর মন্দিরকে গেরুয়া-সাদা রঙে সাজানো হচ্ছে বলে তাঁরা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনের আগে মন্দির চত্বরে রং করা ও সৌন্দর্যায়নের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এর ফলে ভক্ত ও পর্যটকেরা মন্দিরের এক নতুন ও আকর্ষণীয় রূপ দেখতে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। তবে তিনি তারকনাথ মন্দিরে পুজো দিতে যাবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর জন্য আগে থেকেই সেজে উঠেছে মন্দির।