
ফলতা কেন্দ্রের পুননির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। আগামী ২১ মে ভোট ওই কেন্দ্রে। আজ মঙ্গলবারই শেষ প্রচার প্রার্থীদের। তার আগেই নিজেই ভোটে না লড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন জাহাঙ্গির খান।
তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান জানান, তিনি ফলতার সাধারণ মানুষের শান্তির রক্ষার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। ফলতার উন্নয়নের জন্য ভোটযুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়ালেন। বলেন, 'আমাদের রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতাকে বিশেষ প্যাকেজ দেবেন বলে জানিয়েছেন। আমি চাই ফলতার উন্নয়ন হোক। শান্তি থাকুক। সোনার ফলতা তৈরি হোক। তাই আমি সরে দাঁড়িয়েছি। রাজনীতির সঙ্গে কোনও যোগ রাখতেও চাই না। আমি আজ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি সেটা আমার একার সিদ্ধান্ত।'
গত ২৯ এপ্রিল ছিল ফলতার নির্বাচন। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নির্বিঘ্নে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সেখানে পুলিশের পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল উত্তর প্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মা। তাঁকে 'সিংঘম' বলেছিল সংবাদমাধ্যম। সেই পুলিশ আধিকারিক জাহাঙ্গিকের পাড়ায় গিয়েও শাসানি দিয়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ। তার পাল্টা নিজেকে 'পুস্পা' বলেছিলেন জাহাঙ্গির। দাবি করেছিলেন, দিল্লির কোনও শক্তির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না।
এরপর গত ২৯ এপ্রিল সেখানে ভোটের দিন বহু বুথে ইভিএম কারচুপি নিয়ে অভিযোগ জমা পড়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে। বিভিন্ন রিপোর্ট, পর্যবেক্ষক ও প্রশাসনিক সূত্রের তথ্য খতিয়ে দেখে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুর্নর্নিবাচনের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। ২১ তারিখের ভোটে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনে মোতায়েন করার কথা ছিল ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু তার আগেই ভোটের থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গির। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর ফলে সেই কেন্দ্রে ওয়াক ওভার পেল বিজেপি।
প্রসঙ্গত, ফলতায় নিজের দলের প্রার্থী দেবাংশু পান্ডার প্রচারে সেখানে গিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতারা। অথচ সেখানে প্রচারে দেখা যায়নি মমতা বা অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু তো প্রকাশ্য সভা থেকেই বলেছিলেন,'ওই ডাকাতটা কোথায়, পুষ্পা না কী যেন নাম। যত অভিযোগ করেছে সাধারণ নির্বাচনের সময়, সবগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। গুন্ডামি করতে দেব না। নিশ্চিন্ত থাকুন। সাদা থান বাড়িতে ফেলতে দেখব না।’