
একে তো দুই শিবিরে বিভক্ত। তার উপর কোন শিবির দলের প্রতীক জোড়াফুল পাচ্ছে, তাও এখনও নিশ্চিত নয়। এহেন পরিস্থিতিতেই নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে লড়াইয়ের তোড়জোড় চালাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। জানা যাচ্ছে, নন্দীগ্রামে প্রার্থীই পাচ্ছে না মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। কেউই নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে চাইছে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই চ্যালেঞ্জ করলেন আবু তাহের
বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে জিতেছেন খোদ শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের সুদিনেও নন্দীগ্রামে শুভেন্দু হারাতে পারেননি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ২০২৬ সাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অত্যন্ত অন্তত দুঃসময়ের বছর। নন্দীগ্রামে যখন প্রার্থী পেতে কালঘুম ছুটছে, তখনই মমতাপন্থী তৃণমূলের পুরনো নেতা তথা নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম আবু তাহের বেসুরো। তিনি একেবারে সরাসরি দলনেত্রীকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন। একই সঙ্গে তিনি বলেই দিচ্ছেন, নন্দীগ্রামে বিজেপি-ই জিতবে।
'নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে দাঁড়াক'
মমতাকে উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াইয়ের জন্য চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন আবু তাহের। বললেন, '২০২১ সালে নিজেই নিজের নাম ঘোষণা করে দিয়েছেন। আমরা আন্দোলন করেছি। আমরা বাম আমল থেকে লড়াই করেছি। পরবর্তীকালে বিজেপিও একাধিক মামলা দিয়েছে। কমপক্ষে ১০০টি মামলা রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি। তখন দলের সুদিন ছিল। এখন দলের দুর্দিন। এখন নিজে দাঁড়ান।' রামনগরে প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরি অবশ্য দাবি করছেন, নেতৃত্বকে কয়েকটি নাম পাঠানো হয়েছে। নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেই ভাবেই তাঁরা লড়বেন।
এর আগে নন্দীগ্রামের আরেক বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শেখ সুফিয়ান তো স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনও ভাবেই ভোটে লড়বেন না। বলেছিলেন, 'রাজ্য নেতৃত্ব চাক আর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই চাক, প্রার্থী হওয়ার মানসিকতা আমার হারিয়ে গিয়েছে। কারণ আমি ২০০৬ সালে লড়াই করেছিলাম। তারপর থেকে প্রার্থী করার জন্য দল ভাবেনি। আজ ভাবলে তো আর সেই জায়গায় আমি পা দেব না। অতএব প্রার্থী তো দূরের কথা, আমি অবসরের জন্য এবার প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছি। আমার মেয়েরা, স্ত্রী, জামাই, সবাই বলছে, আর রাজনীতি করতে হবে না। যথেষ্ট সম্মান পেয়েছো।'
নন্দীগ্রামেও ফলতার মতোই জেতার সম্ভাবনা বিজেপি-র
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার যে সর্বদল বৈঠক ডেকেছিলেন, সেখানেও তৃণমূলের কোনও শিবিরের তরফেই কেউ যোগ দেননি। কয়েক দিন আগে নন্দীগ্রামে সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে ফলতায় যেমন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে বিজেপি, শেষ মুহূর্তে জাহাঙ্গির খান প্রার্থী পদ থেকে সরে যান, ঠিক একই ভাবে নন্দীগ্রামেও হয়তো বিনা লড়াইয়েই দখল করতে চলেছে রাজ্যের শাসকদল।