
২০১১ সালে যে নন্দীগ্রাম আন্দোলন তৃণমূল কংগ্রেসকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এনেছিল, সেই নন্দীগ্রামেই এখন প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হতে নারাজ দলের নেতারাই। ২০২৬ সালে নন্দীগ্রামে জয়ী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী ছেড়ে দেওয়ায় ওই আসনে উপনির্বাচন হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের যা পরিস্থিতি, তাতে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থীই কেউ হতে চাইছেন না।
পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন শেখ সুফিয়ান
দলের সূত্রের খবর, নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে পুরনো নেতা শেখ সুফিয়ানকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু সেই প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন শেখ সুফিয়ান। একটি বাংলা চ্যানেলকে শেখ সুফিয়ান বললেন, 'রাজ্য নেতৃত্ব চাক আর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই চাক, প্রার্থী হওয়ার মানসিকতা আমার হারিয়ে গিয়েছে। কারণ আমি ২০০৬ সালে লড়াই করেছিলাম। তারপর থেকে প্রার্থী করার জন্য দল ভাবেনি। আজ ভাবলে তো আর সেই জায়গায় আমি পা দেব না। অতএব প্রার্থী তো দূরের কথা, আমি অবসরের জন্য এবার প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছি। আমার মেয়েরা, স্ত্রী, জামাই, সবাই বলছে, আর রাজনীতি করতে হবে না। যথেষ্ট সম্মান পেয়েছো।'
নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে নারাজ পবিত্র করও
একই বক্তব্য ২০২৬ সালে নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়া সেই পবিত্র করেরও। বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছেন পবিত্র। একদা শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। বিজেপি করতেন। নির্বাচনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দেন ও নন্দীগ্রামে দাঁড়ানোর টিকিটও পেয়ে যান। সেই পবিত্রও আর নন্দীগ্রামে দাঁড়াতেরাজি নন। বলছেন, 'লড়াই করার মতো আর ইচ্ছে নেই।'
একসময়ের দাপুটে নেতা ছিলেন শেখ সুফিয়ান
নন্দীগ্রামে একসময়ের দাপুটে নেতা ছিলেন শেখ সুফিয়ান। ২০২১ সালের বিধানসভায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন তিনি। ২০২১ সালে শুভেন্দুর কাছে হেরেছিলেন মমতা। ২০২৬ সালের নির্বাচনে দেখা যায়, গুরুত্ব দেওয়া হয়নি শেখ সুফিয়ানকে। তৃণমূলের অন্দরের খবর, দলের পুরনো সৈনিক শেখ সুফিয়ানকে ভুলে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত পবিত্র করকে টিকিট দেওয়া হয়। গোটা বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামে একবারও নাম আসেনি শেখ সুফিয়ানের।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই আসনেই জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সংবিধান মেনে একটি আসন ছাড়তে হবে তাঁকে। শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়েছেন। ফলে নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হবে।