Advertisement

Youth Arrest CM Suvendu: মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগে গ্রেফতার যুবক, প্রশ্নের মুখে নতুন সরকার

Youth Arrest CM Suvendu: মুখ্যমন্ত্রীর সম্মানহানি এবং এলাকায় শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় তাঁরা সরাসরি দুর্গাপুর থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দুর্গাপুর থানার পুলিশ চূড়ান্ত তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নামে এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

Youth Arrest CM Suvendu: মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগে গ্রেফতার যুবক, প্রশ্নের মুখে নতুন সরকারYouth Arrest CM Suvendu: মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগে গ্রেফতার যুবক, প্রশ্নের মুখে নতুন সরকার
Aajtak Bangla
  • নয়াদিল্লি,
  • 05 Jul 2026,
  • अपडेटेड 8:11 PM IST

Youth Arrest CM Suvendu: রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত আপত্তিকর ও আক্রমণাত্মক পোস্ট করার অভিযোগে এক তৃণমূল কর্মীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। ধৃত ওই যুবকের নাম মহম্মদ আশরাফ যিনি দুর্গাপুরের বেনাচিতি এলাকার মসজিদ মহল্লার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। শিল্পশহর দুর্গাপুরের বুকে ঘটা এই ঘটনাটি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পটভূমিতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে সম্প্রতি অভিযুক্ত মহম্মদ আশরাফ তাঁর নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও এবং কিছু বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার করেন। অভিযোগ উঠেছে যে সেই ভিডিওটিতে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত আপত্তিকর, কুরুচিকর এবং আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হয়েছিল।

বিষয়টি যখন স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের নজরে আসে তখন তাঁরা আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করেননি। মুখ্যমন্ত্রীর সম্মানহানি এবং এলাকায় শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় তাঁরা সরাসরি দুর্গাপুর থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দুর্গাপুর থানার পুলিশ চূড়ান্ত তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নামে এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। গত শনিবার ৪ জুলাই ধৃত মহম্মদ আশরাফকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে মামলার গভীরে যাওয়ার জন্য এবং এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও বড় চক্রান্ত বা কোনও আইটি সেলের উসকানি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। আদালত সমস্ত দিক বিবেচনা করে অভিযুক্তের তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে এবং এই তিন দিন পুলিশি জেরায় কী কী নতুন তথ্য সামনে আসে এখন সেটাই দেখার।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। অনেকেই বলছেন, সরকারের মুখ বদল প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা কিংবা প্রতিবাদের ভাষা কোনওটারই চারিত্রিক বদল ঘটেনি। আগের তৃণমূল সরকারের জমানাতেও তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কার্টুন বা পোস্ট শেয়ার করার দায়ে বহু মানুষকে হাজতবাস করতে হয়েছিল তখন বিরোধী থাকাকালীন বিজেপি বহুবার তার বিরোধিতা করে সরব হয়েছে। বিজেপি বাকস্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করত। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরও তার চেহারা বদলায়নি।

Advertisement

বিজেপির স্থানীয় নেতা সুমন্ত মণ্ডল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে মুখ্যমন্ত্রীর মতো একটি সাংবিধানিক পদের অবমাননা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং পুলিশ আইনানুযায়ী একদম সঠিক পদক্ষেপ করছে। অন্যদিকে তৃণমূল শিবিরের একাংশের দাবি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই পুলিশকে ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। তবে নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে সুস্থ গণতন্ত্রে গঠনমূলক সমালোচনা সবসময় স্বাগত কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কুৎসা রটানো কোনও কাজের কথা নয়।

নতুন সরকার গদিতে বসার পর থেকেই গোটা রাজ্য জুড়ে প্রশাসনিক কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে তৈরি হওয়া নানাবিধ পোস্ট, ট্রোল কিংবা আক্রমণাত্মক ভিডিওর উপর এখন পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে। ক্ষমতার শীর্ষমহল থেকে পরিষ্কার বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে যেকোনও ধরনের অবমাননা বা উসকানিমূলক মন্তব্য আর কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আর এই নতুন নীতি ও কড়াকড়ির জেরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একের পর এক গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে আসছে যা স্বাভাবিকভাবেই এক তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সমালোচনা আর কুৎসার মধ্যেকার সূক্ষ্ম দাগটি আসলে কীভাবে নির্ধারিত হবে? সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দেওয়াটা কি কেবলই একজন সাধারণ নাগরিক বা রাজনৈতিক কর্মীর ব্যক্তিস্বাধীনতা নাকি তার আড়ালে লুকিয়ে থাকে কোনও পরিকল্পিত উসকানি তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে। নতুন জমানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যেভাবে গুরুতর সব আইনি ধারা প্রয়োগ করা হচ্ছে তা একাধারে যেমন প্রশাসনের কড়া মনোভাবকে স্পষ্ট করে ঠিক তেমনই অন্যধারে উসকে দিয়েছে এক দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক প্রশ্ন।

ক্ষমতার পালাবদলের পর যেখানে নতুন নীতি ও উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে চর্চা হওয়ার কথা ছিল সেখানে প্রতিদিনের খবরের শিরোনাম দখল করে নিচ্ছে ফেসবুক বা ইউটিউবের কিছু বিতর্কিত পোস্ট এবং তার পাল্টা পুলিশের অ্যাকশন। রাজনীতির এই টানটান উত্তেজনার পারদ ঠিক কতটা চড়েছে তা বুঝতে আমাদের চোখ রাখতে হবে রাজ্যের এক অন্যতম শিল্পাঞ্চলের দিকে যেখানে ঘটে গিয়েছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement