
আপত্তি নেই তবে জোর করে 'বন্দে মাতরম' গাওয়ানো ঠিক নয়। এমনই মন্তব্য করলেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি। মাদ্রাসায় 'বন্দে মাতরম' গান বাধ্যতামূলক করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যদি বলা হয়, মাদ্রাসায় বাধ্যতামূলক ভাবে বন্দে মাতরম গাইতে হবে, তাহলে সেটা সঠিক নয়।'
ত্বহা সিদ্দিকির মতে, 'বন্দে মাতরম' গাওয়া কোনও অপরাধ নয়। তবে কেউ যদি গাইতে না চায়, তাহলে সেটাও অপরাধ নয়। তিনি বলেন, 'ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ। সংবিধান প্রত্যেক মানুষকে নিজের পরম্পরা এবং বিচারের অধিকারও দিয়েছে।'
CAA প্রসঙ্গে ত্বহা সিদ্দিকি বলেন, 'আমি আগেও CAA-কে স্বাগত জানিয়েছি। এখনও জানাচ্ছি। তবে কোনও ব্যক্তিকেই অবৈধ ভাবে এই আইনের আওতায় আনা হবে না।' যদি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা করা যায়, তবে ত্বহার কোনও আপত্তি নেই। ত্বহার কথায়, 'হিন্দু বা মুসলিম, যেই ধর্মেরই হোক না কেন, পূর্বপুরুষ যদি এই দেশের নাগরিক হন, তাঁদের অবৈধ নাগরিক তকমা দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো যাবে না।'
বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের কুরবানি নিয়ে করা মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ত্বহা সিদ্দিকি বলেন, 'উনি একজন রাজনৈতিক দলের নেতা। ধর্মগুরুর মতো করে তিনি বলেছেন কুরবানি ইসলামের একটি ধার্মিক নির্দেশ। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কুরবানির অর্থ কেবল গরু কাটা নয়, হালাল হওয়া যে কোনও পশুকেই কুরবানি দেওয়া যায়।'
মানুষ কী খাবে আর কী খাবে না, তা সরকার নিয়ন্ত্রণ করলে, সেটা অনুচিত বলেই মনে করছেন ফুরফুরার পীরজাদা। আইন যেন সকলের জন্য সমান হয়, বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, পুরোহিত ভাতা, মোয়াজ্জেম এবং ইমাম ভাতা বন্ধ করলেও কোনও আপত্তি নেই ত্বহার। তবে তিনি শুভেন্দু সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, যাতে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প বন্ধ না করা হয়। কারণ এতে অনেক মানুষ উপকৃত হন।