Advertisement

মমতাকে পদত্যাগ পত্র, পার্থ ভৌমিক ও মদন মিত্রকে নিশানা করে TMC ছাড়লেন কামারহাটির দাপুটে নেতা

বাংলার বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের পদত্যাগের ঢল দেখা গেছে। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করলেন দলের প্রবীণ নেতা রতন চক্রবর্তী। আর পদত্যাগ করেই কার্যত বোমা ফাটালেন তিনি।

 পদত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান নেতা রতন চক্রবর্তী পদত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান নেতা রতন চক্রবর্তী
স্বপন কুমার মুখার্জি
  • বেলঘরিয়া,
  • 30 Jun 2026,
  • अपडेटेड 5:59 PM IST

বাংলার বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের পদত্যাগের ঢল দেখা গেছে।  এবার তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করলেন দলের প্রবীণ নেতা রতন চক্রবর্তী। আর পদত্যাগ করেই কার্যত বোমা ফাটালেন তিনি। 

দলের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন রতন চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, ব্যারাকপুর–দমদম সাংগঠনিক জেলা গঠনের পর পার্থ ভৌমিকের নেতৃত্বে দলের সাংগঠনিক পরিবেশ ক্রমশ অবনতির দিকে গিয়েছে। এর আগেও দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু পার্থ ভৌমিকের অনুরোধে থেকে যান।

দলের প্রতি তীব্র ক্ষোভের কথা জানিয়ে রতন চক্রবর্তী বলেন, ব্যারাকপুর জেলা তৈরি হবার পরে পার্থ ভৌমিকের নেতৃত্বে যেভাবে দল চলেছে তাতে দলে থাকার মতো পরিস্থিতি ছিল না। আগেও আমি ঠিক করেছিলাম তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়বো কিন্তু তখন দলের জেলার সভাপতি পার্থ ভৌমিকের কথায় থেকে যাই। কিন্তু তারপরে নির্বাচনের পরাজয়ের পরে যেভাবে দলের মধ্যে বিভাজনের সৃষ্টি হয়েছে।  কামারহাটি পৌরসভায় পৌরপ্রধান পদত্যাগ করার পরে মদন মিত্র দলের মধ্যে থেকে যেভাবে  বিপথে পরিচালনা করার চেষ্টা করছেন, নির্দল হয়ে জিতে আসা কাউন্সিলরকে পৌরপ্রধান করা হচ্ছে। যারা তৃণমূলের টিকিটের জিতে এসেছে তাদেরকে জোর করে সমর্থন করানো হচ্ছে, যে সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের  ভাই নির্দল হয়ে জিতে এসেছে, তাঁকে পৌরপ্রধান করার যেভাবে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানাচ্ছি।  

মদন মিত্রের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ জানিয়ে এবং দলের বর্তমান পরিস্থিতির উপরে ভরসা হারিয়ে পদত্যাগ করলেন রতন চক্রবর্তী। কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ নিয়ে চলা রাজনৈতিক টানাপড়েনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের নির্বাচিত কাউন্সিলারদের উপরে চাপ সৃষ্টি করে নির্দল কাউন্সিলার সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়কে পুরপ্রধান করার চেষ্টা হয়েছে, যা তিনি মেনে নিতে পারেননি। উল্লেখ্য, সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের ভাই।

Advertisement

প্রসঙ্গত,  দীর্ঘদিন ধরে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার জাতীয় কংগ্রেস নেতা ছিলেন রতন চক্রবর্তী। তারপর সেই জাতীয় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে আসেন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন নেতার সঙ্গে কাজ করেন।  নির্মল ঘোষ, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তাদের সঙ্গে  সহ-সভাপতি, সহ-সম্পাদক হিসাবে কাজ করেছেন। সেই বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা  রতন চক্রবর্তী এবার দল ছাড়লেন।

রিপোর্টারঃ দীপক দেবনাথ

Read more!
Advertisement
Advertisement