Advertisement

Weekly Monsoon Rain Alert: নতুন সপ্তাহে গোটা দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা-তুমুল বৃষ্টি, কোন জেলায় কী সতর্কতা?

আগামী দুই থেকে তিনদিনের মধ্যেই রাজ্যের বাকি অংশে বর্ষা প্রবেশ করতে চলেছে। এমনটাই পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর। সেইসঙ্গে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে রাজ্যের সব জেলাতেই আগামী কয়েকদিন ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় আবহাওয়া পরিবর্তনের এই অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

  সন্ধ্যায় কলকাতায় ঝড়বৃষ্টি সন্ধ্যায় কলকাতায় ঝড়বৃষ্টি
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 14 Jun 2026,
  • अपडेटेड 2:16 PM IST

উত্তরবঙ্গে ইতিমধ্যেই বর্ষা প্রবেশ করেছে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের আকাশে এখনও সেই অর্থে বৃষ্টির দাপট দেখা যাচ্ছে না। উল্টে বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কারণে অস্বস্তিকর গরমে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। ব্যাপক গরমের দাপটে প্রাণ হাঁসফাঁস কলকাতাবাসীর। তার মধ্যেই নতুন সপ্তাহের জন্য স্বস্তির খবর দিল হাওয়া অফিস। জেলায় জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়ার দফতর। জুনের তৃতীয় সপ্তাহে কেমন থাকবে বাংলার আবহাওয়া? চলুন জেনে নেওয়া যাক আপডেট।

হাওয়া অফিস কী বলছে?
 আগামী দুই থেকে তিনদিনের মধ্যেই রাজ্যের বাকি অংশে বর্ষা প্রবেশ করতে চলেছে। এমনটাই পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর। সেইসঙ্গে সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে রাজ্যের সব জেলাতেই আগামী কয়েকদিন ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করায় আবহাওয়া পরিবর্তনের এই অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, অনুকূল পরিস্থিতির কারণে আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ওড়িশার কিছু অংশেও বর্ষা প্রবেশ করতে পারে। এ ছাড়া, পাকিস্তান থেকে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। তার ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে স্থলভাগে। তাই ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। সাধারণ ভাবে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা প্রবেশ করে ১০ জুন। এ বার ১২ থেকে ১৩ জুনের মধ্যে বর্ষা ঢুকেছে।

দক্ষিণবঙ্গ নিয়ে পূর্বাভাস
দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সঙ্গে চলতে পারে বজ্রপাতও। মৌসম ভবন জানিয়েছে, পুরুলিয়া বাদে দক্ষিণবঙ্গের বাকি অংশে বর্ষা প্রবেশ করেছে। পুরুলিয়াতেও বর্ষা প্রবেশের অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই দক্ষিণের ওই অবশিষ্ট অংশে বর্ষা ঢুকে যাবে। তার পর বৃষ্টি কিছুটা বাড়তে পারে। রবিবার  হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামেও  ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সোমবার বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা রয়েছে। হুগলিতে ঝড় হতে পারে বুধবারও। এ ছাড়া, নদিয়ায় বুধবার পর্যন্ত টানা ঝড়বৃষ্টি চলবে। এছাড়া পুরুলিয়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে রবিবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত টানা এক সপ্তাহ ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা খুব একটা হেরফের হবে না। আগামী সাতদিন তাপমাত্রা বর্তমানের মতোই স্থিতিশীল থাকবে। আপাতত সমুদ্র উপকূলে কোনও বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়নি। এই বৃষ্টির জেরে তীব্র গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, বাতাসে অতিমাত্রায় আর্দ্রতা থাকার কারণে ভ্যাপসা গরম কিন্তু পুরোপুরি কাটবে না। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকলেও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি পুরোপুরি বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

Advertisement

উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি
উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে  সপ্তাহজুড়েই রয়েছে দুর্যোগের পূর্বাভাস। আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, রবিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সোমবারও একই থাকবে আবহাওয়া। তবে আগামী মঙ্গলবার ও বুধবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির  সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। আগামী শনিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহার সহ উত্তরের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদাতেও আগামী সাতদিন বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

কলকাতার পরিস্থিতি
রবিবার কলকাতার বেশ কিছু জায়গায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে বইবে ঝোড়ো হাওয়া। বিশেষ করে বিকেল অথবা সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়ভাবে মেঘ জমে গিয়ে ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। রবিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিক। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৮ ডিগ্রি বেশি। শহরে ইতিমধ্যে বর্ষা প্রবেশ করে গেলেও ভ্যাপসা গরম ও বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতার অস্বস্তি কিন্তু বজায় রয়েছে।

Read more!
Advertisement
Advertisement