Advertisement

সীমান্তে কাঁটাতারে কোথায় কাঁটা? স্বরূপনগর কাজ পরিদর্শনে মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া

স্বরূপনগরের বড়ুল-গাবর্ডাহ্ সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার নির্মাণের কাজ বহুদিন ধরে জমি সংক্রান্ত নানা সমস্যায় আটকে ছিল। সীমান্তরেখার কিছু অংশ ব্যক্তিগত কৃষিজমির উপর দিয়ে গিয়েছে, আবার কোথাও বসতবাড়ি সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করায় প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ফলে সীমান্তের বেশ কিছু অংশ এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে কাঁটাতারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

অশোক কীর্তনিয়াঅশোক কীর্তনিয়া
বিশাল দাস
  • স্বরূপনগর,
  • 31 May 2026,
  • अपडेटेड 4:36 PM IST

সীমান্তের এক বিস্তীর্ণ অংশে বহু বছর ধরে ঝুলে ছিল  গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় হলেও নানা জটিলতার কারণে বারবার থমকে গিয়েছিল কাজ। কোথাও বসতভিটার প্রশ্ন, কোথাও কৃষিজমির অধিকার, আবার কোথাও সীমান্ত নির্ধারণ ঘিরে অনিশ্চয়তা— সব মিলিয়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ যেন হয়ে উঠেছিল এক অমীমাংসিত সমীকরণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার সেই অচলাবস্থা কাটানোর লক্ষ্যে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। এবার সীমান্তে কাঁটাতারের জট কাটাতে মাঠে নামলেন মন্ত্রী। উচ্চপর্যায়ের তৎপরতা শুরু হওয়ায় সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বহুদিনের সমস্যার সমাধানে এবার কি সত্যিই মিলবে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই শুরু হয়েছে ধারাবাহিক প্রশাসনিক উদ্যোগ। এই প্রেক্ষাপটে শনিবার বসিরহাটের স্বরূপনগর ব্লকের কৈজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের সীমান্তবর্তী গাবর্ডাহ্ গ্রাম পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কাঁটাতার নির্মাণ প্রকল্পের জট কাটানোর লক্ষ্যেই তাঁর এই সফর বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

 সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের উদ্দেশ্যেও এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, স্বরূপনগরের বড়ুল-গাবর্ডাহ্ সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতার নির্মাণের কাজ বহুদিন ধরে জমি সংক্রান্ত নানা সমস্যায় আটকে ছিল। সীমান্তরেখার কিছু অংশ ব্যক্তিগত কৃষিজমির উপর দিয়ে গিয়েছে, আবার কোথাও বসতবাড়ি সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান করায় প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ফলে সীমান্তের বেশ কিছু অংশ এখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে কাঁটাতারের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাতেও এর প্রভাব পড়ছিল বলে অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের।এদিন গাবর্ডাহ্ গ্রামে পৌঁছে প্রথমে সংশ্লিষ্ট এলাকা ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। সীমান্তের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অংশ, জমির অবস্থান এবং কাঁটাতার নির্মাণের সম্ভাব্য এলাকা সম্পর্কে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি। পরে বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে সীমান্ত এলাকার মানচিত্র ও সংশ্লিষ্ট নথি তুলে ধরে আধিকারিকরা বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। কোথায় কী ধরনের সমস্যা রয়েছে এবং সেগুলির সমাধান করে কীভাবে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব, তা নিয়েও আলোচনা হয়।

Advertisement

বিএসএফের সঙ্গে বৈঠক শেষে মন্ত্রী স্বরূপনগর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দফতরে যান। সেখানে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে আরও একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে দ্রুত কাঁটাতার নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা যায়, সেই বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কাঁটাতার নির্মাণের কাজ থমকে থাকায় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। ফলে প্রশাসনের এই সক্রিয় ভূমিকা এবং মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শনকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সীমান্তবাসীরা। প্রশাসনের লক্ষ্য এখন সীমান্ত সুরক্ষা, জমির মালিকদের স্বার্থ এবং স্থানীয় বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে কাঁটাতার নির্মাণের প্রকল্প এবার নতুন গতি পাবে বলেই আশাবাদী প্রশাসন ও সীমান্ত এলাকার মানুষ।

রিপোর্টার- তপন মণ্ডল

Read more!
Advertisement
Advertisement