
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বৃষ্টির দাপট অব্যাহত। সোমবার সকাল থেকেই শহরের একাধিক এলাকায় দফায় দফায় বৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় মৌসম বিভাগ (IMD) জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়াও বইতে পারে। হাওয়া অফিস বলছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। উত্তরবঙ্গেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। বাংলার ২৩ জেলা নিয়ে কী আপডেট দিল হাওয়া অফিস? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
নিম্নচাপের বর্তমান অবস্থা
বিগত কয়েকদিন ধরেই নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে বাংলা জুড়ে। গতকালই নিম্নচাপটি ওড়িশার দিকে চলে গিয়েছিল। দিঘা থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল এই গভীর নিম্নচাপ। তার জেরে ওড়িশাতে ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। লেটেস্ট আপডেট অনুযায়ী, ওড়িশা হয়ে এখন মধ্য ভারতের পথে নিম্নচাপ। এই মুহূর্তে গভীর নিম্নচাপের অবস্থান রয়েছে উত্তর ওড়িশা এবং দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকায়। দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এবং সংলগ্ন উত্তর ওড়িশায় নিম্নচাপটি এখন অবস্থান করছে। এই আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির প্রভাবে, আজ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তরে অনুকূল বায়ুপ্রবাহ এবং বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশের ফলে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ৭ থেকে ৯ জুলাই উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত এবং এক-দুটি স্থানে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির পরিস্থিতি
নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি চলছে দক্ষিণবঙ্গে। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আজ, সোমবার পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূমে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝড় হওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা জারি থাকবে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম জেলাতে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই দুর্যোগের হাত থেকে এখনই রেহাই পাচ্ছে না দক্ষিণবঙ্গবাসী। শুধু সোমবারই নয়, আগামিকাল অর্থাৎ মঙ্গলবারও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পরবর্তী দু’দিন, অর্থাৎ বুধ ও বৃহস্পতিবারেও বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই গভীর নিম্নচাপের প্রভাব দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে চলতি সপ্তাহের প্রায় পুরোটা সময়ই থাকবে। জেলায় জেলায় দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টি চলবে। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা আরও বেড়েছে। ফলে আগামী দু’দিন দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের ছাতা ও বর্ষাতি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা।
উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি বাড়বে
ধীরে ধীরে বৃষ্টি বাড়বে উত্তরবঙ্গে। আজ ভারী বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা জারি করা হয়েছে উত্তরবঙ্গে। দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলার কিছু অংশে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাতে ঝড় বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা থাকবে। মঙ্গলবার থেকে ঝড়-বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে উত্তরবঙ্গে। মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং দার্জিলিং জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে। অতি ভারী বৃষ্টির লাল সর্তকতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড় বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা রয়েছে বাকি সব জেলাতে। শুক্রবার ও শনিবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার- এই পাঁচ জেলাতেই ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। উত্তরের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড় বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা বাতাস বইতে পারে।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা
মৎস্যজীবীদেরও সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ উপকূল সংলগ্ন এলাকায় দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৫৫ কিলোমিটার, কোথাও কোথাও ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। মঙ্গলবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তাল থাকবে সমুদ্র। সেই কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে আপাতত নিষেধ করা হয়েছে।
কলকাতাতেও বৃষ্টি চলবে
সকাল থেকে আকাশের মুখভার। লাগাতার বৃষ্টিতে ভাসছে কলকাতা। ভোর থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। আজ কলকাতাতে সারাদিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে । আগামী কয়েকদিন কলকাতায় ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিতে একাধিক এলাকায় জলও জমে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় ভেঙে পড়েছে গাছ। যার জেরে সকাল থেকেই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। জল জমে থাকায় ট্র্যাফিকের গতিও বেশ কিছুটা ধীর। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আপাতত আবহাওয়ায় বিশেষ কোনও পরিবর্তন নেই। সোমবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম। আগামী দিন কয়েক কলকাতার আকাশ থাকবে মেঘলা ৷ সঙ্গে দু'এক পশলা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। বৃষ্টি কমলেই শহরে পাল্লা দিয়ে বাড়বে ভ্যাপসা গরম।