
বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত দ্রুত শক্তি বাড়িয়ে পূর্ণাঙ্গ নিম্নচাপে পরিণত হতে চলেছে। এর সরাসরি প্রভাবে আজ থেকেই রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির দাপট বাড়তে চলেছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অগাস্টের ১২ তারিখ অর্থাৎ কালকের মধ্যেই নিম্নচাপটি শক্তিশালী রূপ নিলে চলতি সপ্তাহজুড়েই উত্তর থেকে দক্ষিণ—সমগ্র বাংলাজুড়েই বর্ষার প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বৃষ্টির পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় দমকা হাওয়াও বইতে পারে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির ভারী সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। কোন জেলায় কী সতর্কতা রয়েছে? চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই আপডেট।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস
আজ মঙ্গলবার থেকে নতুন করে ঝড় বৃষ্টির সম্মুখীন হবেন বাংলার মানুষ। হাওয়া অফিস বলছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭.৬ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ঘূর্ণাবর্ত (cyclonic circulation) অবস্থান করছে, যা উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে হেলে রয়েছে। এর প্রভাবে, ১২ অগাস্ট ২০২৬-এর আশেপাশে ওই একই অঞ্চলে একটি লঘুচাপ (Low Pressure Area) সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠে মৌসুমি বায়ুর অক্ষরেখাটি (Monsoon trough) বর্তমানে বিকানের, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকার লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, সিধি, রাঁচি ও দিঘা হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, ১১ থেকে ১৫ অগাস্ট ২০২৬-এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলার দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাত (৭-১১ সেমি) হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ১২ অগাস্ট দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত (৭-২০ সেমি) হওয়ারও প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য আগামী সাত দিনের সতর্কতা নিচে দেওয়া হলো
দক্ষিণবঙ্গের জন্য পূর্বাভাস
১১ অগাস্ট: দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার এক বা দুটি স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের (০৭-১১ সেমি) প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়া জেলার এক বা দুটি স্থানে এবং দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোরও এক বা দুটি স্থানে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া (গতিবেগ ৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা) বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
১২ অগাস্ট: দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এক বা দুটি স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত (০৭-২০ সেমি) এবং কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও বাঁকুড়া জেলার এক বা দুটি স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের (০৭-১১ সেমি) প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার এক বা দুটি স্থানে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া (গতিবেগ ৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা) বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
১৩ অগাস্ট: দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টি (০৭-১১ সেমি) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার দু-এক জায়গায় বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া (গতিবেগ ৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা) বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১৪ অগাস্ট: দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া ও বীরভূম জেলার দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টি (০৭-১১ সেমি) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার দু-এক জায়গায় বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া (গতিবেগ ৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা) বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১৫ অগাস্ট: দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান ও নদিয়া জেলার দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টি (০৭-১১ সেমি) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার দু-এক জায়গায় বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া (গতিবেগ ৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা) বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
১৬ অগাস্ট: দক্ষিণবঙ্গের সব জেলার অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের জন্য পূর্বাভাস ও সতর্কতা
১১ অগাস্ট: উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলার কয়েকটি স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এক বা দুটি স্থানে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া (গতিবেগ ৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা) বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
১২ অগাস্ট: উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলার অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি জলপাইগুড়ি, মালদা এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এক বা দুটি স্থানে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া (গতিবেগ ৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা) বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
১৩ অগাস্ট: উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলার অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে এবং জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার এক বা দুটি স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের (০৭-১১ সেমি) প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলার এক বা দুটি স্থানে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া (গতিবেগ ৩০-৪০ কিমি/ঘণ্টা) বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
১৪ অগাস্ট: উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলার অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় এক বা দুটি স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের (০৭-১১ সেমি) প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
১৫ অগাস্ট: উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলার অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলায় এক বা দুটি স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের (০৭-১১ সেমি) প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
১৬ অগাস্ট: উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলার অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর জেলায় এক বা দুটি স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের (০৭-১১ সেমি) প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
১৭ অগাস্ট: উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলার অধিকাংশ স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কালিম্পং জেলায় এক বা দুটি স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের (০৭-১১ সেমি) প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা
১১ থেকে ১৫ অগাস্ট, পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় দমকা হাওয়াসহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার হতে পারে এবং মাঝে মাঝে তা দমকা হাওয়া হিসেবে ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাই মৎস্যজীবীদের ১১ থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশা উপকূল এবং উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।