
অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে আছড়ে পড়ে শক্তি হারালেও তার রেশ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ছত্তিশগড় ও ওড়িশা সংলগ্ন এলাকায় ‘অর্ণব’-এর অবশিষ্টাংশ ইতিমধ্যেই নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নতুন নিম্নচাপটি শক্তি বাড়িয়ে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোচ্ছে। জোড়া এই ওয়েদার সিস্টেমের জেরে নভেম্বরের শুরুতেই ভারতের পূর্ব উপকূলবর্তী বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। এর জেরে বাংলার আবহাওয়া নিয়েও চিন্তা বাড়ছে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ রবিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। কলকাতাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও বৃষ্টি হতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলার ২৩ জেলার আবহাওয়া কেমন থাকবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই আপডেট।
হাওয়া অফিস কী জানাচ্ছে?
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে সেই নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়টি। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুরাসু’। তবে এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি কোনও প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে দুই বঙ্গেই।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া
মঙ্গলবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর ও নারসাপুরের মাঝে ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের। পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতেও এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রবিবার ১ নভেম্বর দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় হাল্কা থেকে মাঝারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। হাওয়ার গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান - এই জেলাগুলিতে রবিবার ১ নভেম্বর ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। তবে আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই দক্ষিণবঙ্গে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। দু-একটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া পুরোপুরি শুষ্ক হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ নিয়ে পূর্বাভাস
অন্যদিকে আজ রবিবার ১ নভেম্বর উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে। আর তার সঙ্গে বইবে দমকা ঝোড়ো হাওয়া। হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। উত্তরবঙ্গের উপরের দিকে ৫ জেলা অর্থাৎ দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার - এই জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে আজকের জন্য। ২ এবং ৩ নভেম্বর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে হাল্কা থেকে মাঝারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া বইবে না। হাওয়া অফিস কোনও সতর্কতা জারি করেনি। ৩ এবং ৪ তারিখ আবার বৃষ্টি হতে পারে উত্তরবঙ্গের উপরের দিকের ৫ জেলায়। হাল্কা থেকে মাঝারি বিক্ষিপ্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে। উত্তরবঙ্গের উপরের দিকে ৫ জেলা অর্থাৎ দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার - এই জেলাগুলিতে বৃষ্টি হলেও ঝড়ের সতর্কতা নেই। ৪ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে মোটামুটি শুকনো আবহাওয়া থাকবে বলেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
কলকাতার আবহাওয়া
রবিবার সকাল থেকেই রোদ ঝলমলে আকাশ শহর কলকাতায়। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় গরমে নাজেহাল হতে পারেন পথচলতি মানুষ। আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই কলকাতা। তবে কোনও কোনও এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। মঙ্গলবার পর্যন্ত শহরে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বুধবার থেকে আবহাওয়া একদম পরিষ্কার থাকবে বলেই জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।