Advertisement

Weekend Weather Update: নিম্নচাপের জেরে ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা এই ১১ জেলায়, সপ্তাহান্তেও কি দুর্যোগ?

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে জোরালো ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নিম্নচাপের প্রভাবে সপ্তাহান্তে বাংলার বিভিন্ন জেলার আবহাওয়া কেমন থাকবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই আপডেট।

 কোথায় কবে পর্যন্ত বৃষ্টি? কোথায় কবে পর্যন্ত বৃষ্টি?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 24 Sep 2026,
  • अपडेटेड 12:44 PM IST

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাঝারি থেকে জোরালো ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। নিম্নচাপের প্রভাবে সপ্তাহান্তে বাংলার বিভিন্ন জেলার আবহাওয়া কেমন থাকবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই আপডেট। 

নিম্নচাপের বর্তমান অবস্থান
হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের উপর থাকা গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ১টার মধ্যে অতি গভীর নিম্নচাপ হিসাবে কলিঙ্গপত্তনমের দক্ষিণ-পশ্চিমের কাছ দিয়ে উপকূল অতিক্রম করেছে। সেই সময় এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫৫-৬৫ কিমি। এর পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ সর্বোচ্চ ৭৫ কিমি প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত ছিল। উপকূল অতিক্রম করার পরও কিছুটা সময় পর্যন্ত এটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-পশ্চিম দিকেই এগিয়েছে। IMD লেটেস্ট বুলেটিন অনুযায়ী,  উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের ওপর অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি গত ৬ ঘণ্টায় ঘণ্টায় ৩ কিমি গতিতে ধীরে এগিয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে। এটি ২৪  সেপ্টেম্বর ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলীয় অঞ্চলের ওপর (১৮.৩° উত্তর অক্ষাংশ ও ৮৩.৭° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কাছাকাছি) অবস্থান করছিল। এই অবস্থানটি কলিঙ্গপত্তনম (অন্ধ্রপ্রদেশ) থেকে প্রায় ৫০ কিমি পশ্চিমে, বিশাখাপত্তনম (অন্ধ্রপ্রদেশ) থেকে ৮০ কিমি উত্তর-উত্তর-পূর্বে এবং গোপালপুর (ওড়িশা) থেকে ১৭০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে। মনে করা হচ্ছে, আপাতত এই সিস্টেম আজ, বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে এবং পরবর্তী ১২ ঘণ্টা অতি গভীর নিম্নচাপের তীব্রতা বজায় থাকবে। এরপর এটি দিক পরিবর্তন করে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে এটি দুর্বল হবে। এমনটাই জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর ৷

বৃষ্টি নিয়ে পূর্বাভাস
 আবহাওয়া দফতরের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে নিম্নচাপটি ক্রমশ মধ্য ভারতের দিকে সরতে শুরু করতে পারে। তবে, এর প্রভাবে এ দিনও কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় বঙ্গের বিভিন্ন জেলা এবং উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও তরাইয়ের এলাকাগুলিতে বৃষ্টি হতে পারে। নিম্নচাপের প্রভাবে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আজ, বৃহস্পতিবার সকাল দক্ষিণবঙ্গের বেশির ভাগ জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। 

Advertisement

দক্ষিণবঙ্গ নিয়ে পূর্বাভাস
পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কয়েকটি এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া ও কলকাতার কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তা ছাড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের উপকূলের অংশ ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাসের কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বাকি সব জেলার কিছু অংশে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিবেগে দমকা বাতাসের সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলাতে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃষ্টি হতে পারে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত। কলকাতা, বাঁকুড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাতে ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান ও হাওড়া জেলাতে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুক্রবার ভারী বৃষ্টি হবে বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলাতে। শনিবার থেকে আবহাওয়ার উন্নতি হবে। বৃষ্টির সম্ভাবনা কমবে। তবে শুক্রবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায়  বৃষ্টি কমবে বলে পূর্বাভাস। 

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি
উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পং জেলা কয়েকটি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। উত্তরবঙ্গে শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে উপরের দিকের পাঁচ জেলায়। বিক্ষিপ্তভাবে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং কিছুটা উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।  বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা উত্তরবঙ্গের কয়েক জেলায়। বৃহস্পতিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা রয়েছে। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় অতিবাহিত বৃষ্টির কমলা সতর্কতা রয়েছে শুক্রবারে। রবিবার থেকে বৃষ্টি কমবে উত্তরবঙ্গে।

কলকাতাতেও বৃষ্টি
আজ, বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কলকাতাতে। ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা রয়েছে কলকাতার কিছু অংশে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কয়েক পশলা বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার দমকা ঝোড়ো বাতাসের সম্ভাবনা থাকবে। এদিন সকাল থেকেই কলকাতায় কয়েক পশলা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার থেকে কমবে বৃষ্টির সম্ভাবনা। আগামী ২৪ ঘণ্টায় মূলত মেঘলা আকাশ থাকবে শহরে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে কয়েক পশলা।

মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ঘণ্টায় ৪৫-৫৫ কিলোমিটার বেগে হাওয়া এবং সর্বোচ্চ ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম-মধ্য ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরও উত্তাল থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

Advertisement
Read more!
Advertisement
Advertisement