
বৃষ্টি দিয়েই শুরু হয়েছে রবিবারের সকাল।প্রসঙ্গত, কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে টানা বৃষ্টি চলছে। কখনও ঝিরঝিরে, কখনও মুষলধারে বর্ষণে ভিজছে শহর, শহরতলি। আজও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। এই পরিস্থিতি আরও কিছু দিন চলবে। নতুন সপ্তাহে উত্তরবঙ্গেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। আগামী সাত দিন কেমন থাকবে বাংলার ২৩টি জেলার আবহাওয়া? চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই আপডেট।
কী বলছে হাওয়া অফিস?
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার থেকে শুরু হওয়া নতুন সপ্তাহে উত্তর থেকে দক্ষিণ দুই বঙ্গেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। ভারী বৃষ্টির জন্য বিশেষ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে একাধিক জেলায়। এমনকি ১৬ জুলাই রথের দিনও একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বর্ষাকালীন অক্ষরেখা হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ হয়ে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ ছাড়া, উত্তর বাংলাদেশ এবং সংলগ্ন অঞ্চলের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। সমুদ্রতল থেকে তার উচ্চতা ১.৫ কিলোমিটার। এই ঘূর্ণাবর্তের উপর দিয়ে বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত আরও একটি অক্ষরেখা গিয়েছে। এর ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। তার প্রভাবে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ঝড়বৃষ্টি চলবে।
দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে রবিবার। পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে বীরভূম, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া-সহ একাধিক জেলায়। সঙ্গে বইতে পারে দমকা ঝোড়ো হাওয়া। আবহাওয়া দফতর আরও জানিয়েছে, নতুন সপ্তাহ থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বাড়তে পারে বৃষ্টির পরিমাণ। সোমবার বৃষ্টির পরিমাণ ও ব্যাপকতা কিছুটা বাড়তে পারে দক্ষিণবঙ্গে। ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা থাকবে নটি জেলাতে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং হাওড়া জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি। দক্ষিণবঙ্গের বাকি সব জেলাতে বজ্র -বিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি। সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতি বেগে দমকা বাতাস বইতে পারে। মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা থাকবে পাঁচ জেলাতে। পুরুলিয়া বাঁকুড়া বীরভূম পশ্চিম বর্ধমান এবং মুর্শিদাবাদ জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির হলুদ সর্তকতা। বাকি জেলাতে ও বিক্ষিপ্তভাবে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা। বুধবার থেকে ঝড় বৃষ্টির সম্ভাবনা কমতে পারে বলে ইঙ্গিত আবহাওয়া দফতরের। তবে বৃষ্টি না হলে বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকার কারণে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি থাকবে।
রথের দিনের আবহাওয়া
বৃহস্পতিবার অর্থাৎ রথের দিন থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি বাড়তে পারে। ওই দিন হাওড়া এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে। কলকাতাতেও মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। শুক্রবার ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা থাকছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি
ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে রবিবার ভারী থেকে অতি ভারী (৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার) বৃষ্টি হতে পারে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতেও রয়েছে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলায় কমবেশি বৃষ্টি চলবে। আগামী শুক্রবার এবং শনিবার কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
কলকাতাতেও বৃষ্টি
রবিবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশের মুখ ভার। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দিনভর মোটের উপর মেঘলাই থাকবে শহরের আকাশ। সম্ভাবনা রয়েছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির। তবে সোমবার থেকে বাড়তে পারে বৃষ্টির পরিমাণ। মঙ্গল ও বুধবার বৃষ্টির সম্ভাবনা কিছুটা কমবে। রথের দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। এদিন কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের থেকে ০.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম।