
স্বাধীনতার ৭৯ বছর কেটে গিয়েছে। বিশ্বে এখন AI ঝড়। ভারতও তাল মিলিয়ে চলছে সব দেশের সঙ্গে। কিন্তু প্রদীপের নীচে অন্ধকার! হুগলির একটি গ্রামে এত দিন পরে প্রথমবার ইলেক্ট্রিক পৌঁছল। আলো জ্বলল। গ্রামটির নাম অস্ত্রদত্তপুর। দীপাবলির আগে ওই গ্রাম প্রথমবার বিদ্যুত্চালিত আলো দেখতে পেল। স্বাধীনতার ৭৯ বছর এই গ্রামে বিদ্যুত্ পৌঁছলো।
স্বাধীনতার পর এই প্রথমবার বিদ্যুত্ পৌঁছল গ্রামে
অস্ত্রদত্তপুরে প্রায় ৪০০ আদিবাসী পরিবারের বসবাস। এই প্রথমবার তাঁরা বিদ্যুত্ পেলেন। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বিদ্যুতের আলো পৌঁছল ওই গ্রামে। দীপাবলির আগে নতুন আলোর দিশা পেলেন হুগলির তারকেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত অস্ত্রদত্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। প্রায় ৪০০টি আদিবাসী পরিবার এত দিন বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। অবশেষে গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছনোয় খুশির হাওয়া পরিবারগুলির মধ্যে।
বিদ্যুতের খুঁটি থাকলেও তার টানা হয়নি
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কয়েক বছর আগে গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হলেও তার টানা হয়নি। ফলে স্বাধীনতার পর থেকে বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত ছিলেন তাঁরা। বিশেষ করে সমস্যায় পড়তে হত পড়ুয়াদের। সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করতে গিয়ে নানা অসুবিধার মুখে পড়ত গ্রামের শিশুরা। স্থানীয় বাসিন্দা রুই বাড়ির কথায়, 'স্বাধীনতার পর এই প্রথম তাঁদের গ্রামে বিদ্যুৎ আসছে। আমরা খুব খুশি। গ্রামটি বরাবর বিজেপিকে ভোট দেওয়ায় আগের তৃণমূল সরকার বিদ্যুতের খুঁটি বসালেও তারের ব্যবস্থা করেনি।'
বিজেপি-কে ভোট দিত বলে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়নি: সন্তু পান
বিজেপি বিধায়ক সন্তু পানের দাবি, ১৯৯৭-৯৮ সাল থেকেই এই গ্রামের মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়ে আসছেন। সেই কারণেই এত দিন গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। বিধায়ক জানান, নির্বাচনী প্রচারে গ্রামবাসীদের সমস্যার কথা জানতে পেরে জয়ের পর প্রথম কাজ হিসেবেই বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
সন্তু পানের বক্তব্য, মাসখানেক আগে জেলা বিদ্যুৎ দফতরের তরফে বাড়ি বাড়ি মিটার বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। বিপিএল তালিকাভুক্ত পরিবারগুলি বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে। ইতিমধ্যেই ৫০টি বাড়িতে নতুন মিটার বক্স বসানো হয়েছে। শতাধিক পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আসছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিধায়কের দাবি, চকদহের সমস্ত পরিবারই আদিবাসী সম্প্রদায়ের এবং তাঁরা তফসিলি জনজাতিভুক্ত। মূলত কৃষিকাজের উপর নির্ভর করেই তাঁদের জীবনযাপন। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছনোয় দীপাবলির আগে তাঁদের কাছে এই প্রাপ্তি কার্যত আলোর উৎসবেরই সমান।