Advertisement

Rejinagar By-Election 2026: শাসকদল হলেও রেজিনগর উপনির্বাচন BJP-র কাছে চ্যালেঞ্জ, মমতা কি প্রার্থী হচ্ছেন?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা, এই দুই আসনেই জিতেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি-র প্রধান হুমায়ুন কবীর। পরে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন। একটি বিষয় স্পষ্ট, রেজিনগরে মুসলিম ভোট বড় ফ্যাক্টর। বিজেপি-র কাছে ঠিক এই জায়গাতেই চ্যালেঞ্জ।

হুমায়ুন কবীর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীহুমায়ুন কবীর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী
অরিন্দম গুপ্ত
  • কলকাতা,
  • 08 Sep 2026,
  • अपडेटेड 11:16 AM IST
  • রেজিনগরে বিধানসভা ভোটে কী হয়েছিল?
  • উপনির্বাচনে কী পরিস্থিতি?
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি প্রার্থী হতে পারেন রেজিনগরে?

পুজোর আগেই ফের বিধানসভা ভোট পশ্চিমবঙ্গে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন। ফলতার মতোই নন্দীগ্রামেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে জেতে পারে বিজেপি। কারণ, তৃণমূল কংগ্রেস শুভেন্দু অধিকারীর শক্তঘাঁটি নন্দীগ্রামে প্রার্থীই খুঁজে পাচ্ছে না। বস্তুত, কেউ দাঁড়াতে চাইছে না। কিন্তু রেজিনগর? এখানেই শাসকদলের চ্যালেঞ্জ। 

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা, এই দুই আসনেই জিতেছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি-র প্রধান হুমায়ুন কবীর। পরে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন। একটি বিষয় স্পষ্ট, রেজিনগরে মুসলিম ভোট বড় ফ্যাক্টর। বিজেপি-র কাছে ঠিক এই জায়গাতেই চ্যালেঞ্জ। রেজিনগরে ৬৮ শতাংশ মুসলিম ভোটার। সেখানে হিন্দু ভোট মাত্র ৩৮ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে পুরো ৩৮ শতাংশ হিন্দু ভোটও যদি বিজেপি-তে যায়, তাতেও মুসলিম ভোট ভাগ না হলে মুশকিল শাসকদলের।

রেজিনগরে বিধানসভা ভোটে কী হয়েছিল?

গোটা মুর্শিদাবাদ জেলায় বিধানসভা ভোটে ৮টি আসনে জিতেছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছিল ৯টি আসনে। ২০২১ সালে যে বিজেপি শুধুমাত্র বহরমপুর ও মুর্শিদাবাদ আসন জিতেছিল, সেই দলই ২০২৬ সালের নির্বাচনে ৮টি আসন পেয়েছে। মুসলিম অধ্যুষিত জেলা হলেও, হিন্দু ভোট যে একজোট হয়ে বিজেপি-কে ভোট দিয়েছে, তা বুঝতে বড় রাজনৈতিক বোদ্ধা হওয়ার প্রয়োজন নেই। বিধানসভা উপনির্বাচনে সাধারাণত শাসকদলই জিতে যায়। কিন্তু বিজেপি শাসকদল হওয়া সত্ত্বেও রেজিনগর কিন্তু ভাবাচ্ছে। এই আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর বিধানসভা নির্বাচনে ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন। বিপুল মার্জিনে। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, বামেরা মুসলিম প্রার্থী দিয়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। বিজেপি প্রার্থী করেছিল বাপান ঘোষকে। তিনি ৫৮ হাজার ৮৭৬ ভোটের মার্জিনে হেরেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস ও অন্যান্য দলগুলি মুসলিমপ্রার্থী দেওয়ায় ভোট কিছুটা কাটাকাটি হলেও বেশির ভাগটাই হুমায়ুনের দখলে ছিল। 

উপনির্বাচনে কী পরিস্থিতি?

বিধানসভা ভোটের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক চিত্র বদলে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসে দুটি ভাগ হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। পুরসভা, জেলা পরিষদগুলিতেও বিজেপি-র আধিপত্য বাড়ছে। bangla.aajtak.in-কে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর বললেন, 'এখানে আরামশে জিতব। বিধানসভা ভোটে যে মার্জিনে জিতেছিলাম, সেই মার্জিনেই জিতব।' হুমায়ুন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন রেজিনগর উপনির্বাচনে ‘বাঁশি’ প্রতীক নিয়ে এবার তাঁর জায়গায় লড়বেন পুত্র গোলাম নবি আজাদ (রবিন)। ইতিমধ্যেই হুমায়ুন তাঁর ছেলের সমর্থনে রেজিনগরের বিভিন্ন এলাকার দেওয়াল লিখনও শুরু করেছেন। এখন দেখার, বিজেপি, তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস ও বামেরা কাকে প্রার্থী করে রেজিনগরে।

Advertisement

হুমায়ুনের কথায়, 'ঋতব্রত শিবির, মমতার শিবির, সিপিএম, কংগ্রেস, সবাই তো প্রার্থী দেবে। কিন্তু মানুষ এখন অনেক সমঝে গিয়েছে। বিজেপি যেমন হিন্দু ভোটকে সম্পদ ধরেছে, তেমনই খানকার মুসলিমরাও আমাদেরকেই সমর্থন করবেম। স্বচ্ছ্ব ভাবে ভোট হলে ও জনতাকে ভোটদানে বাধা না দিলে, যে মার্জিনে বিধানসভা ভোটে জিতেছিলাম, সেই মার্জিনেই জিতব। এখানে ২ লক্ষ ৬২ হাজার ভোটারের মধ্যে ৮৯ হাজার হিন্দু ভোট রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিম ভোট কিছুটা বিভাজন হয়েছিল। এবারে সেটাও হবে না। উপনির্বাচনে হয়তো ভোটদানের হার কমতে পারে। কারণ বিধানসভা নির্বাচনে SIR-এর ভয়ে মানুষ ঢেলে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের জয়ের মার্জিন কমবে না।' 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি প্রার্থী হতে পারেন রেজিনগরে?

কয়েক মাস আগে রেজিনগর উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী হওয়ার অফার দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। হুমায়ুন জানাচ্ছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে কোনও রকম সাড়া মেলেনি। তাই তিনি তাঁর ছেলেকে প্রার্থী করেছেন। তাহলে রেজিনগরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কাকে প্রার্থী করবে? মমতা নিজে রেজিনগরে দাঁড়াবেন কিনা, তার কোনও খবর নেই। মমতা শিবিরের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানালেন, 'প্রার্থী তো দেবই।' অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও জানাচ্ছে, তারা প্রার্থী দেবে। কিন্তু সমস্যা হল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মুর্শিদাবাদ জেলায় সাংগঠনিক অবস্থা ভাল নয়। আবার কারা আসল তৃণমূল কংগ্রেস, সেই সিদ্ধান্তও ঝুলে রয়েছে নির্বাচন কমিশনে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন আসল তৃণমূল কেস নিষ্পত্তি করবে কিনা, সেটাই দেখার। যদি তা না হয়, তা হলে তৃণমূলের দুই শিবিরই প্রার্থী দেবে। অন্যদিকে কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে এটুকু বলাই যায়, বাম ও কংগ্রেস, দুই দলই মুসলিম প্রার্থীই দেবে। সে ক্ষেত্রে ৮৯ হাজার হিন্দু ভোট কি বিজেপি এককাট্টা ভাবে পাবে? মুসলিম ভোট ভাগাভাগি হলেও চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে শাসকদলের কাছে। নন্দীগ্রামে মতো 'কেক ওয়াক' না-ও হতে পারে।

Read more!
Advertisement
Advertisement