
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কি প্রার্থী পাচ্ছে ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল কংগ্রেসও? হঠাত্ তাঁরা বলতে শুরু করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে তাঁরা সবাই মিলে সমর্থন করবেন। এমনকী মদন মিত্র থেকে নন্দীগ্রামে নেতা আবু তাহের, সকলেই মমতাকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন।
মমতাকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হওয়ার বার্তা বিদ্রোহী শিবিরের
তৃণমূল শিবিরের তৃণমূল নেতা আখরুজ্জামানের বক্তব্য, 'প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ন রয়ে গেছে, নন্দীগ্রাম থেকে তিনি জিততে পারেননি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যদি নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন, তাঁর স্বপ্নপূরণের জন্য আমরা সরে দাঁড়াব। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর না জেতার যে যন্ত্রণা, তার জন্য ওখানে প্রার্থী পদ প্রত্যাহার করে নেব।' এখন প্রশ্ন হল, ঋতব্রত শিবিরের তরফেও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে লড়াই করার প্রার্থী আছে তো? জোড়া ফুল প্রতীক কোন শিবিরের এবং কারা আসল তৃণমূল কংগ্রেস, তা এখনও নির্বাচন কমিশনের বিচারাধীন। তারই মধ্যে ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হতে চলেছে। প্রতীক ইস্যুতে শনিবার প্রথমে সকাল ১১টায় 'ঋতব্রত তৃণমূল'-এর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠক রয়েছে। এরপর বেলা ১২টায় মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠক করবে তারা। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে আসল তৃণমূল মামলার ফয়সালা হয়ে যাচ্ছে কিনা, সেটাই দেখার।
মদন মিত্রও চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মমতাকে
এদিকে মমতার একদা রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম সঙ্গী মদন মিত্রও চ্যালেঞ্জ ছুড়ছেন নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী হওয়া নিয়ে। তিনি বলছেন, 'নন্দীগ্রামে একা লড়ুন, যেখানে যা আছে সর্বশক্তি দিয়ে নামান। প্রমাণ করুন ভোটচুরি করে হারানো হয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারী কি চুরি করে জিতেছিলেন? মেশিন বিভ্রাট করে জিতেছিলেন? তা রাজ্যের সামনে প্রমাণ হয়ে যাক।'
কেন ঋতব্রতরা মমতাকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী চাইছেন?
এখন প্রশ্ন হল, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিদ্রোহী তৃণমূল শিবির কেন মমতাকে প্রার্থী করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে? এর পিছনেও রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্ক। আসল তৃণমূল কংগ্রেস ইস্যু এখনও মেটেনি। ঋতব্রত তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রের খবর, যদি এই ইস্যু উপনির্বাচনের আগে না মেটে, তা হলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে নির্দল প্রার্থীও দিতে পারে ঋতব্রতদের শিবির। সে ক্ষেত্রে ওই নির্দল প্রার্থী বিপুল ভোটে যদি হেরে যায়, তাহলে ঋতব্রত শিবিরের নেতাদের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের এখন অন্যতম সমস্যা হল, নন্দীগ্রামে কেউ দাঁড়াতে চাইছেন না। প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছেন না।
নন্দীগ্রামে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জিতেছেন। এই আসনটি মূলত হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক বেশি। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র কর হেরেছেন। তিনিও আর নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে রাজি নন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে আসলে ঋতব্রত শিবির আসলে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন মমতাকে। এই বিদ্রোহী শিবির যখন তৈরি হল, তখন ঋতব্রত বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা পরামর্শদাতা হিসেবে চাইছেন। সেই মমতাকেই এখন নন্দীগ্রামে ভোটে দাঁড় করানোর চ্যালেঞ্জ করছেন। জোড়াফুল প্রতীক যদি ঋতব্রতরা শেষমেশ না পান, তাই আগে থেকেই ঘুঁটি সাজিয়ে রাখতে চাইছেন বিদ্রোহীরা?