
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়তে পারেন তাঁর প্রিয় 'কেষ্ট' অনুব্রত মণ্ডল। এমনই জল্পনা চলছে বীরভূম জেলার রাজনীতিতে। কারণ, তৃণমূলের জোড়া ফুলের প্রতীক যে দিকে থাকবে সেই দিকেই থাকবেন বলে অনুব্রত দাবি করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সম্মান পেলে তৃণমূলে থাকবেন। নইলে থাকবেন না।
আসলে ভোটে ভরাডুবির পরই তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব আজ সঙ্কটে। প্রায় মুছে যাওয়ার মুখে দল। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৬৪ বিধায়ক নিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হয়েছেন। এমনকী এই 'ঋতব্রত তৃণমূল' আবার দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছেন। চেয়ারপার্সন হিসেবে সরিয়েছেন মমতাকে। নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। সেখানে রয়েছে একাধিক চমক। এমনকী মমতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ববি হাকিম এবং অরূপ বিশ্বাসও রয়েছেন এই নয়া কমিটিতে।
আর এই নব্য তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বীরভূমের বিধায়করাও। তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়া ফুল প্রতীক চিহ্নে জয়ী দুই বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ ও কাজল শেখ নয়া তৃণমূলে গিয়েছেন। পাশাপাশি পরাজিত দুই তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিংহ ও আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূম জেলার নব্য তৃণমূলের রাজনৈতিক দায়ভার নিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক কার্যকলাপের কি অবসান হচ্ছে? যদিও কেষ্টর মতে, উনি বারংবার বলেছেন জোড়া ফুল প্রতীকের দিকে আছেন। কিন্তু বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের একটা বড় অংশই চলে গিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়র দিকে। তাঁর সঙ্গে মমতা ও অভিষেক বিরোধী তৃণমূলের বিধায়করা রয়েছেন। তাহলে নব্য তৃণমূল কী অনুব্রত মণ্ডলকে জায়গা দেবে? এই প্রসঙ্গে কেষ্টর প্রতিক্রিয়া, 'তৃণমূলের প্রতীক যে দিকে থাকবে, সে দিকেই থাকবেন।'
যদিও মাথা রাখতে হবে, কেষ্ট বিরোধী যুযুধান নেতা বিধায়ক কাজল শেখ নব্য তৃণমূল দিকে রয়েছে। তাই অনুব্রতর জন্য নয়া তৃণমূলে যাওয়াও যে খুব একটা সহজ হবে না, এটা সহজেই অনুমেয়। এখন দেখার এই দক্ষ রাজনীতিক ঠিক কোন চাল দেন। বাংলার রাজনীতিতে তিনি নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারেন কি না।
(প্রতিবেদন: স্বপন কুমার মুখোপাধ্যায়)