
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ। উত্তাল সমুদ্র। এমন পরিস্থিতিতে ১৫ জন মৎস্যজীবী নিয়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার নিখোঁজ হয়েছে। আর সেই নিখোঁজদের খোঁজেই এবার জোর তল্লাশি চালাচ্ছে প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হয়েছে নিম্নচাপের। যার জেরে উত্তাল সমুদ্র। এমতাবস্থায় ট্রলারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। এই ট্রলারে নিখোঁজদের মধ্যে ওড়িশার বালেশ্বর জেলার তিনজন রয়েছেন। আর বাকি ১২ জন মৎস্যজীবী বাংলার।
তথ্য অনুযায়ী, 'মা কালী' নামে ট্রলারটি গত ২ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের শঙ্করপুর থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে রওনা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্রে নিম্নচাপের প্রভাবে প্রবল ঢেউ ও খারাপ আবহাওয়ার মুখে পড়ে ট্রলারটি। তারপরই ট্রলারটির সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। যার জেরে ট্রলারটির মধ্যে থাকা ১৫ জন মৎস্যজীবী নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন।
নিখোঁজদের মধ্যে ওড়িশার বালেশ্বর জেলার ভোগরাই ব্লকের উলুদা গ্রামের তিনজন মৎস্যজীবী রয়েছেন। তাঁরা হলেন রবীন্দ্র মাঝি, জগন্নাথ মাঝি এবং জয়রাম মাঝি। বাকি ১২ জন পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা।
ট্রলারটি নিখোঁজ হওয়ার পর দিঘা ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি দিঘা ও মন্দারমণি মেরিন পুলিশকে জানায়। এরপরই শুরু হয় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান।
শঙ্করপুর ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশ নায়ক সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করার আবেদন জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, 'আমাদের সংগঠনের নথিভুক্ত মা কালী ট্রলারটি ২ জুলাই ১৫ জন মৎস্যজীবীকে নিয়ে সমুদ্রে যায়। তারপর থেকে ট্রলার বা মৎস্যজীবীদের কোনও খোঁজ মেলেনি। আমরা সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, স্থানীয় বিধায়ক, বিভিন্ন থানার পুলিশ, দিঘা উপকূল থানার পুলিশ এবং মন্দারমণি উপকূল থানাকে বিষয়টি জানিয়েছি। আমরা নৌবাহিনী ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করে দ্রুত তল্লাশি চালানোর আবেদন জানিয়েছি। নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবার অত্যন্ত উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তাঁদের নিরাপদে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছে।'
জোর তল্লাশি চলছে
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বঙ্গোপসাগরে তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। নিখোঁজ ট্রলার ও মৎস্যজীবীদের খুঁজতে হেলিকপ্টারে চলছে তল্লাশি। পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্ধারকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১৫ জনের কারও সন্ধান মেলেনি। তাঁদের সম্পর্কে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁরা উদ্ধারকারী দলের কাছ থেকে ইতিবাচক খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন।