
হঠাৎই হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে মুর্শিদাবাদের ১৬ বছর বয়সী ইকবাল শেখকে নিয়ে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত পুকুরের জলেই কাটিয়ে দিচ্ছে ইকবাল। মাঝে মধ্যে শুধু পাড়ে উঠছে। তাই তাকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই সঙ্গে মাথাচাড়া দিচ্ছে কৌতূহল। আর ইতিমধ্যেই তার ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ইকবাল বাড়ি ছেড়ে বেলডাঙার আশপাশের বিভিন্ন পুকুরে দিন-রাত কাটাচ্ছে। অধিকাংশ সময়ই সে কয়েক দিন পর্যন্ত পুকুরে কাটিয়ে ফেলছে।
এখন প্রশ্ন হল, কেন এভাবে পুকুরেই দিন কাটাচ্ছে ইকবাল? তার দাবি, জল থেকে উঠলেই সারা শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয়। সেই কারণেই পুকুরের জলে নামে সে। তাতেই অস্বস্তি কমে যায়।
ইকবালের বিশ্বাস, এর পিছনে কোনও অদৃশ্য শক্তির হাত রয়েছে। কখনও জিন, কখনও পরী বা অন্য কোনও অতিপ্রাকৃত শক্তির উপস্থিতির জন্য তার এহেন সমস্য়া হচ্ছে বলে মনে করছে সে।
যদিও দীর্ঘ সময় ধরে জলে থাকার এই অস্বাভাবিক অভ্যাস তার শরীরে প্রভাব ফেলছে বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘক্ষণ জলে থাকার পর ইকবালের হাত, পা সহ শরীরের বিভিন্ন অংশের ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি তার সর্দি-কাশির সমস্যাও দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
ইকবালের দাবি, সে স্থানীয় ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে প্রয়োজনীয় সাহায্য পায়নি। অন্যদিকে পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভাল নয়। ফলে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্যও তাদের নেই বলে জানা গিয়েছে।
ইতিমধ্যেই ইকবালকে নিয়ে বাড়ছে মানুষের কৌতূহল। প্রতিদিন স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা পুকুরের ধারে ভিড় করছেন তাকে দেখতে। কেউ কেউ আবার তার জন্য খাবারও নিয়ে আসছেন। চিঁড়ে, বিস্কুট সহ বিভিন্ন ধরনের খাবার তাকে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে তাকে জল থেকে তুলে বাড়ি ফেরানো সহজ হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেও ইকবালকে পুকুর থেকে বাড়ি ফেরানো সম্ভব হয়নি।
ইতিমধ্যেই গোটা গ্রামেই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ইকবালের ঘটনা। অতিপ্রাকৃত শক্তির বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। ঠিক তেমনই ইকবালের স্বাস্থ্য নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় তার শারীরিক অবস্থা। টানা কয়েক দিন জলে থাকার ফলে শরীরে যে বিরাট ক্ষতি হয়েছে, এটা তো বলাই বাহুল্য!
এছাড়াও প্রশ্ন উঠছে, ইকবাল যে তীব্র জ্বালাপোড়ার কথা বলছে, তার প্রকৃত কারণ কী এবং সে আদৌ সঠিকভাবে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়েছে কি না। এখন দেখার এক্ষেত্রে প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয় কি না।