
তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের পর অবৈধ নির্মাণ নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের কড়া অবস্থান সামনে এসেছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বুধবার সন্ধ্যায় এলাকায় বুলডোজার নামিয়ে একাধিক বেআইনি কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপকে ঘিরে শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এই উদ্যোগকে পরিস্থিতির প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত বলেই ব্যাখ্যা করেছেন।
তিনি বলেন, 'পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেই সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান, কেউই তার ঊর্ধ্বে নয়।' তাঁর মতে, জননিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও ধরনের বেআইনি নির্মাণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা বরদাস্ত করা হবে না।
নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, মানুষের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করে এমন কোনো অবৈধ স্থাপনা রেয়াত করা হবে না। সেই নির্দেশ মেনেই তিলজলায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
এদিন কর্মসংস্থান নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, পঞ্চায়েত দফতরে দ্রুত সাড়ে ৬ হাজার নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আগের সরকারের সময় বহু প্যানেল তৈরি হলেও নিয়োগ বাস্তবায়ন হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। এই বঞ্চিত প্রার্থীদের বিষয়টি ধাপে ধাপে বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।
খাদ্য প্রকল্প নিয়েও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্পে এখন ডিম-ভাতের পাশাপাশি মাছ-ভাত যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান দিলীপ ঘোষ। একই সঙ্গে ৫ টাকায় খাবারের সুবিধা বজায় রাখার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে অরেঞ্জ লাইন মেট্রোর কাজ নিয়ে আগের সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, উন্নয়নমূলক কাজ আটকাতে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল আগের সরকার। তবে এখন আইনি জটিলতা কাটিয়ে মেট্রোর বকেয়া কাজ দ্রুত শুরু হবে বলেও তিনি জানান।