Advertisement

বাবার শেষকৃত্য কে করবেন? শ্মশানেই চলল ভাই-বোনের মধ্যে তুমুল বচসা

শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশকে খবর দেন পরিবারের সদস্যরা। পুলিশকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলতে শোনা যায়, হিন্দু শাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী যেটা করা উচিত সেটাই আপনারা করুন। গন্ডগোল করবেন না। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ছেলেই বাবা-মায়ের মুখাগ্নি করে।

বাবার শেষকৃত্য নিয়ে ছেলে-মেয়ের ঝামেলাবাবার শেষকৃত্য নিয়ে ছেলে-মেয়ের ঝামেলা
প্রীতম ব্যানার্জী
  • কলকাতা,
  • 10 Oct 2026,
  • अपडेटेड 6:50 PM IST
  • বাবা কার? এই নিয়ে উত্তপ্ত শ্মশান প্রাঙ্গণ।

বাবা কার? এই নিয়ে উত্তপ্ত শ্মশান প্রাঙ্গণ। ঘটনাটি ঘটেছে, নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাস মহাশ্মশান এলাকায়। জানা গিয়েছে, নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী কাদীপুর গ্রামের বাসিন্দা অনিল বিশ্বাস নিজের বাড়িতেই মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। যেহেতু ঘরের মধ্যে বৃদ্ধর নিথর শরীর উদ্ধার হয়, তাই এলাকাবাসীরা কৃষ্ণগঞ্জ থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠায়। 

বাড়িতে বৌমা থাকলেও অনিল বিশ্বাসের ছেলে অসীম বিশ্বাস কর্মসূত্রে পঞ্জাবে থাকেন। ছেলের কাছেই বাবা থাকতেন। অন্যদিকে প্রয়াত অনিল বিশ্বাসের স্ত্রী আরতি বিশ্বাস থাকতেন মেয়ে ললিতার বাড়িতে। নিয়ম অনুযায়ী ময়নাতদন্ত করা হয় অনিল বিশ্বাসের। এদিকে বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে পঞ্জাব থেকে আসেন ছেলে অসীম বিশ্বাস। এরপর অনিল বিশ্বাসের নিথর শরীর শেষকৃত্যর জন্য শিবলিবাস মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হলে কে মুখাগ্নি করবেন এই নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। এমনকী মুখাগ্নিকে কেন্দ্র করে ভাই-বোনের মধ্যে কার্যত হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। 

শেষ পর্যন্ত কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশকে খবর দেন পরিবারের সদস্যরা। পুলিশকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলতে শোনা যায়, হিন্দু শাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী যেটা  করা উচিত সেটাই আপনারা করুন। গন্ডগোল করবেন না। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ছেলেই বাবা-মায়ের মুখাগ্নি করে। এদিকে সেই সমময় বেঁকে বসেন প্রয়াত অনিলবাবুর স্ত্রী আরতি বিশ্বাস। তিনি বলেন, তাঁর স্বামীর মুখাগ্নি করবেন মেয়ে ললিতা। যদিও তাঁকে বারংবার বোঝানোর চেষ্টা করেন পুলিশ কর্মীরা। কিন্তু তাতে রাজি হননি আরতীদেবী। এরপর ছেলে অসীম বিশ্বাস বলেন, আমার মা যখন চাইছেন না আমি মুখাগ্নি করি, তখন মায়ের ইচ্ছা মতোই হোক। শেষ পর্যন্ত মায়ের নির্দেশ বাবার মুখাগ্নি করেন মেয়ে।

রিপোর্টার-সুরজিৎ দাস
 

TAGS:
Read more!
Advertisement
Advertisement