
সোমবার থেকে রাজ্যে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের পরিষেবা চালু হয়েছে। কলকাতা ও শহরতলির বহু এলাকায় এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মহিলারা। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, সরকারি বাসই যখন নিয়মিত পাওয়া যায় না, তখন এই সুবিধার বাস্তব প্রয়োগ হবে কীভাবে?
জেলার ক্যানিং, সোনারপুর, বারুইপুর, জয়নগর, বজবজ, মহেশতলা এবং সাতগাছিয়ার মতো বহু এলাকায় সরকারি বাসের সংখ্যা অত্যন্ত কম। কোথাও কোথাও সরকারি বাস থাকলেও তা এতটাই অনিয়মিত যে সাধারণ মানুষের কাছে তা কার্যত অদৃশ্য। ফলে অধিকাংশ যাত্রীকে এখনও বেসরকারি বাস, অটো বা অন্যান্য পরিবহণের উপর নির্ভর করতেই হচ্ছে।
একসময় বারুইপুর থেকে হাওড়া পর্যন্ত সরকারি বাস চলত। এমনকি করুণাময়ী পর্যন্ত এসি বাস পরিষেবাও ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিষেবাগুলির অধিকাংশই বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গড়িয়া বা কলকাতামুখী যাতায়াতের জন্য এখন মূলত বেসরকারি বাস ও অটোর উপরই ভরসা করতে হয়।
বারুইপুরের বাসিন্দা একাধিক মহিলার বক্তব্য, বিনামূল্যে যাতায়াতের ঘোষণা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ, কিন্তু তাঁদের এলাকায় নিয়মিত সরকারি বাস না থাকায় সেই সুবিধা কার্যত অধরাই থেকে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর বাসের সংখ্যা আরও কমে যায়। অটোও অনেক ক্ষেত্রে ‘কাটা রুটে’ চলাচল করে। ফলে গন্তব্যে পৌঁছতে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হয়। তাঁদের দাবি, বারুইপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত নিয়মিত সরকারি বাস পরিষেবা চালু করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে কর্মজীবী মহিলারা উপকৃত হন।
সোনারপুর থেকেও প্রতিদিন বহু মহিলা বারুইপুর ও কলকাতায় কাজের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করেন। নিয়মিত সরকারি বাস থাকলে তাঁরা এই নতুন প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। একইভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন ক্যানিং, বাসন্তী, গোসাবা অঞ্চলেও সরকারি বাসের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগের সরকার কয়েকটি সরকারি বাস চালু করলেও এখন সেগুলির দেখা মেলে না বললেই চলে।
তবে জেলার সব জায়গার ছবি এক নয়। কাকদ্বীপ, ডায়মন্ড হারবার, বকখালি ও পাথরপ্রতিমা রুটে সরকারি বাস তুলনামূলকভাবে বেশি চলাচল করে। ফলে ওইসব এলাকার মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ তুলনামূলক সহজেই পাচ্ছেন।
সোমবার ধর্মতলা থেকে কাকদ্বীপগামী সরকারি বাসগুলিতে মহিলা যাত্রীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এক সরকারি বাসের কন্ডাক্টর আশিস বারুই জানান, ধর্মতলা থেকে কাকদ্বীপে আসার সময় তাঁর বাসে মোট ১০২ জন যাত্রী ছিলেন। এর মধ্যে ৫৫ জন মহিলা এবং ৪৭ জন পুরুষ। তাঁর মতে, আগামী দিনে এই পরিষেবার ফলে সরকারি বাসে মহিলা যাত্রীর সংখ্যা আরও বাড়বে।
তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, যে সব এলাকায় সরকারি বাস পরিষেবাই পর্যাপ্ত নয়, সেখানে বসবাসকারী মহিলারা এই প্রকল্পের সুফল কতটা পাবেন? বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা বাস্তবে সকলের কাছে পৌঁছে দিতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও নিয়মিত সরকারি বাস পরিষেবা, এমনটাই মনে করছেন জেলার বহু বাসিন্দা।