
যোগাসন শুধু শরীরচর্চার একটি পদ্ধতি নয়, এটি এক গভীর আত্মিক সাধনা। ‘যোগ’ শব্দের অর্থই হল সংযোগ, শরীর, মন এবং আত্মার মধ্যে এক সুষম সমন্বয় গড়ে তোলা। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ নিজের অন্তর্নিহিত শক্তি, মানসিক শান্তি এবং জীবনের ভারসাম্যের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে। প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার অমূল্য ঐতিহ্য হিসেবে যোগের জন্ম হলেও, আজ তা বিশ্বজুড়ে সুস্বাস্থ্য, মানসিক প্রশান্তি এবং আত্মোন্নয়নের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত যোগাভ্যাস শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখার পাশাপাশি মনকে প্রশান্ত করে এবং জীবনযাপনে আনে সচেতনতা ও ইতিবাচকতা। সেই কারণেই বর্তমান সময়ে শিশু থেকে প্রবীণ, সব বয়সের মানুষের মধ্যেই যোগব্যায়ামের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সামনে রেখে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, স্কুলের পড়ুয়াদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের স্বার্থে প্রতিদিন প্রার্থনার পর অন্তত আধঘণ্টা ব্যায়াম বা যোগচর্চার ব্যবস্থা করা উচিত। এ বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আবেদন জানাবেন বলেও জানান। তাঁর মতে, নিয়মিত শরীরচর্চা ও যোগাভ্যাস শিশুদের মন ও শরীরকে সুস্থ রাখবে এবং তাদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এদিকে, আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতায় আয়োজিত হতে চলেছে দ্বাদশ ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’-এর মূল অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। তাঁর সেই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের ১২৯টিরও বেশি দেশ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করে, যা ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।