Advertisement

রেলগেট, কাটমানি, দুর্নীতি কত? নজরে কাটোয়া পৌরসভা, মেগা প্ল্যান জানালেন কৃষ্ণ ঘোষ

'মুম্বইয়ে অল্প কিছুদিন সোনার কাজ করেছি। আমি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ২০০২ সাল থেকে আরএসএস-এর স্বয়ংসেবক হিসেবে কাজ করছি। দিলীপ ঘোষ যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। অর্জুন মণ্ডল আমার জেলা প্রচারক ছিলেন। এই দু’জনই আমার রাজনৈতিক জীবনের গুরু ও পথপ্রদর্শক।'

কাটোয়ার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ।-ফাইল ছবিকাটোয়ার বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ।-ফাইল ছবি
সুকমল শীল
  • কলকাতা,
  • 02 Jun 2026,
  • अपडेटेड 6:06 PM IST
  • বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে।
  • কাটোয়ার বর্তমান অবস্থা, রাজনৈতিক পালাবদল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী দিগন্ত পাল। এই পরিস্থিতিতে কাটোয়ার বর্তমান অবস্থা, রাজনৈতিক পালাবদল এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ।

আপনাকে 'জায়েন্ট কিলার' বলা হচ্ছে, রবি চট্টোপাধ্যায়কে কীভাবে হারালেন?
কৃষ্ণ ঘোষ: উনি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পালন করেননি। কাটোয়াকে সন্ত্রাসের মধ্যে রেখে দিয়েছিলেন। উনি এবং ওঁর সাঙ্গপাঙ্গরা তোলাবাজি করতেন। সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী, সকলেই আতঙ্কে ছিলেন। মানুষ এই আতঙ্ক থেকে মুক্তি চাইছিলেন। আমি কাটোয়ায় সমীক্ষা করে দেখেছিলাম, মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। সরাসরি মানুষের সঙ্গে মিশেছি, তাঁদের কথা শুনেছি। প্রথমে গ্রামের দিকে প্রচার শুরু করি। গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আমাকে দেখে ‘জয় শ্রী রাম’ বলছিল। তখনই বুঝতে পেরেছিলাম, রবি চট্টোপাধ্যায়কে হারানো সম্ভব হতে পারে।

মুম্বইতে সোনার কাজ করতেন, রাজনীতিতে এলেন কীভাবে?
কৃষ্ণ ঘোষ: মুম্বইয়ে অল্প কিছুদিন সোনার কাজ করেছি। আমি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। ২০০২ সাল থেকে আরএসএস-এর স্বয়ংসেবক হিসেবে কাজ করছি। দিলীপ ঘোষ যখন দায়িত্বে ছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। অর্জুন মণ্ডল আমার জেলা প্রচারক ছিলেন। এই দু’জনই আমার রাজনৈতিক জীবনের গুরু ও পথপ্রদর্শক।

কাটোয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা কী? কীভাবে সমাধান করবেন?
কৃষ্ণ ঘোষ: কাটোয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা রেলগেট। সেখানে একটি ব্রিজ তৈরি করা জরুরি। এরপর রয়েছে হাসপাতালের অব্যবস্থা এবং শহরের নিকাশি সমস্যা। কর্মসংস্থানেরও অভাব রয়েছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। কাটোয়ার বহু স্কুলে শিক্ষকের অভাব রয়েছে। আর একটি বড় সমস্যা হল কাটমানি। যেকোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে গেলেই কাটমানি দিতে হত। তবে আমি জেতার পর অনেক পরিবর্তন শুরু হয়েছে।

Advertisement

আপনি জেতার পর থেকেই তৃণমূলের নেতারা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কেন?
কৃষ্ণ ঘোষ: কাটোয়ার নিকাশি প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পুকুর ভরাট করে বিক্রি করা হয়েছে। কাটোয়া পুরসভার গত ২০ বছরে কোনও অডিট হয়নি। প্রচুর বেআইনি নির্মাণ হয়েছে। বছরের পর বছর বেলাগাম দুর্নীতি চলেছে। জনরোষের ভয়েই তাঁরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

আপনি কি কাটোয়ায় বুলডোজার চালাবেন?
কৃষ্ণ ঘোষ: অবশ্যই। যেখানে যেখানে অনিয়ম হয়েছে, সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে বুলডোজারও চলবে।

১১ নম্বর ওয়ার্ডের একাংশের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে পাট্টার দাবি জানাচ্ছেন। বিধানসভায় বিষয়টি তুলবেন?
কৃষ্ণ ঘোষ: মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। অবশ্যই এই দাবি আমি বিধানসভায় তুলব। শুধু ১১ নম্বর ওয়ার্ড নয়, কাটোয়া, দাঁইহাট ও ১১টি পঞ্চায়েত এলাকার মানুষের সমস্যার কথাও তুলে ধরব।

কাটোয়ার রেলগেট নিয়ে পরিকল্পনা কী?
কৃষ্ণ ঘোষ: আগামী ৬ জুন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী আসছেন। তাঁর সঙ্গে আমাদের বৈঠক রয়েছে। সেখানে ব্রিজ তৈরি করা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই।

কাটোয়ার টোটো পরিষেবা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
কৃষ্ণ ঘোষ: আমরা টোটো ও রিকশাচালকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতে চাই। টোটোচালকরা যাতে সব জায়গায় যেতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হবে। নির্দিষ্ট ভাড়া এবং আলাদা আলাদা রুটও নির্ধারণ করা হবে।

কাটোয়ার কার্তিক লড়াইয়ের ঐতিহ্য নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
কৃষ্ণ ঘোষ: প্রথমেই কার্তিক পুজোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করব। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। সাধারণ মানুষ নিজেদের ইচ্ছেমতো উৎসব পালন করবেন।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement