Advertisement

আজ থেকেই শুরু ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’, ৩ জেলাকে নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, কোন কোন কাগজ রেডি রাখবেন?

তবে নতুন প্রকল্পে সুবিধাভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যাচাই অনেক বেশি কঠোর করা হয়েছে। আয়করদাতা, সরকারি চাকরিজীবী এবং পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবেন।

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারঅন্নপূর্ণা ভাণ্ডার
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 03 Jun 2026,
  • अपडेटेड 12:34 PM IST
  • পশ্চিমবঙ্গে নারীকল্যাণমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।
  • প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’।

পশ্চিমবঙ্গে নারীকল্যাণমূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পরিবর্তে ২০২৬ সালের ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। নারীদের আর্থিক স্বনির্ভরতা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই প্রকল্পে মাসিক ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকল্পের সূচনা উপলক্ষে তিন জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।

কী এই অন্নপূর্ণা যোজনা?
অন্নপূর্ণা যোজনা সম্পূর্ণভাবে মহিলাদের জন্য চালু করা একটি আর্থিক সহায়তা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে সরাসরি তাঁদের আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতির মাধ্যমে এই অর্থ পাঠানো হবে।

প্রকল্পের জন্য ১ জুন থেকে রাজ্যজুড়ে ৯০ দিনের বিশেষ নথিভুক্তিকরণ অভিযান শুরু হয়েছে। নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, সরকারি ক্যাম্প এবং মাঠপর্যায়ের আধিকারিকরা আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবেন।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সঙ্গে পার্থক্য কোথায়?
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসিক ৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলারা ১,০০০ টাকা পেতেন। পরবর্তীতে সেই ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। তবে অন্নপূর্ণা যোজনায় জাতি, ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমস্ত যোগ্য মহিলা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন।

তবে নতুন প্রকল্পে সুবিধাভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যাচাই অনেক বেশি কঠোর করা হয়েছে। আয়করদাতা, সরকারি চাকরিজীবী এবং পেনশনভোগীরা এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবেন।

কারা আবেদন করতে পারবেন?
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী আবেদনকারীদের নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ করতে হবে-
পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
আয়করদাতা হওয়া যাবে না।
সরকারি বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী হওয়া চলবে না।
সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মী হওয়া যাবে না।
নিয়মিত সরকারি বেতন বা পেনশন গ্রহণ করা যাবে না।

Advertisement

কীভাবে আবেদন করবেন?
অনলাইন এবং অফলাইন-দুই মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে।

সরকারি সোশ্যাল সিকিউরিটি পোর্টাল থেকে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় আবেদনপত্র ডাউনলোড করা যাবে। পোর্টাল চালু হওয়ার পর ফর্ম স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করা যাবে।

আবেদনপত্রে যে তথ্য দিতে হবে
আধার নম্বর
ভোটার পরিচয়পত্র (EPIC) নম্বর
প্যান কার্ডের তথ্য
পরিবারের প্রধানের নাম
পরিবারের সদস্য সংখ্যা
বার্ষিক পারিবারিক আয়
ডিজিটাল রেশন কার্ডের হাউজহোল্ড আইডি (যদি থাকে)
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য
আদনকারীর পেশা
পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতা
আয়কর বা প্রফেশনাল ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য
প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদনের সময় হাতের কাছে রাখতে হবে
আধার কার্ড
ভোটার কার্ড
ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের কপি
পাসপোর্ট সাইজ ছবি
ঠিকানার প্রমাণপত্র বা বাসস্থানের শংসাপত্র

অফলাইন আবেদন ও বিশেষ ক্যাম্প
পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং স্থানীয় সরকারি অফিসে অফলাইনে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।

এছাড়া ১৫ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ ‘জনকল্যাণ শিবির’-এর আয়োজন করা হবে, যেখানে সরাসরি আবেদন ও নথিভুক্তিকরণের সুযোগ মিলবে।

কঠোর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া
শুধুমাত্র স্ব-ঘোষণার ভিত্তিতে কোনো আবেদন অনুমোদিত হবে না। আবেদন জমা পড়ার পর ব্লক ও মহকুমা স্তরে বিস্তারিত মাঠপর্যায়ের যাচাই করা হবে।

গ্রামীণ এলাকায় যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকবেন বিডিও।
শহরাঞ্চলে যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকবেন এসডিও।
চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তালিকা পাঠানো হবে জেলাশাসকের কাছে।

সরকারের দাবি, প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অযোগ্য আবেদনকারীদের বাদ দিতেই এই কঠোর যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের টাকা বন্ধ হবে না। যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের ধাপে ধাপে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আনা হবে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement