
মাত্র ৫ মাস। তাতেই মোহভঙ্গ হল আরাবুল ইসলামের। আইএসএফ ছাড়লেন আরাবুল। কারণ হিসেবে জানালেন, 'স্বৈরাচার ও একনায়কতন্ত্রে'র জেরেই দল ছেড়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এদিন দলত্যাগের ঘোষণা করেন তিনি।
শুক্রবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে আরাবুল লেখেন, 'আইএসএফের স্বৈরাচারী এবং একনায়কতন্ত্রকে আমি ধিক্কার জানাই। আইএসএফের লুম্পেন বাহিনীর হাতে ভাঙড় জুড়ে যেভাবে মানুষের উপরে অত্যাচার-অনাচার নেমে এসেছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এই দল থেকে আমি পদত্যাগ করলাম।'
২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আইএসএফ-এ যোগ দিয়েছিলেন আরাবুল। ভোটেও দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু হেরে যান। তারপর থেকে সেভাবে রাজনীতির ময়দানে দেখা যায়নি একদা দাপুটে প্রাক্তন তৃণমূল নেতার। এবার হঠাৎ নীরবতা ভাঙলেন। আর তাতেই এমন বড় সিদ্ধান্ত।
তবে কি তৃণমূল কংগ্রেসেই ঘরওয়াপসি? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। যদিও সে বিষয়ে এখনও কিছুই জানাননি আরাবুল।
এমনিতেও তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীনই আরাবুল বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। একসময় কলেজে শিক্ষকের দিকে জলের জগ ছুড়েছিলেন বলেও অভিযোগ। ঘটনার পর তৃণমূল থেকে সাসপেন্ডও হয়েছিলেন। যদিও পরে সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়। আর তারপরেই ফের স্বমহিমায় অবতীর্ণ হন। ভাঙরের রাজনীতিতে আরাবুলের দাপট কারও অজানা নয়।
শুধু তাই নয়, ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গেও তাঁর দীর্ঘদিনের সংঘাত ছিল।
গ্রেফতারও হয়েছেন। ২০২৩-এ পঞ্চায়েত ভোটের সময় অশান্তি, উস্কানি, প্ররোচনার অভিযোগে গ্রেফতার হন।
তবে বরাবরই 'কামব্যাক' হয়েছে আরাবুলের। সেবারও জামিনে মুক্ত হয়ে রীতিমতো গলায় মালা পরে ভাঙরে ফেরেন।
তবে ২০২৫-২৬-এ শওকতের সঙ্গে আরাবুলের সংঘাত চরমে ওঠে। শেষ পর্যন্ত হঠাৎ তৃণমূল ছেড়ে দেন। তারপর নওশাদ সিদ্দিকির হাত ধরে আইএসএফ-এ যোগ দেন। যদিও সেখানে ভোটের ময়দানে সাফল্য জোটেনি।
এরপর আরাবুল কোনদিকে এগোবেন? তৃণমূলেই ফিরবেন, নাকি রাজনীতির থেকেই আপাতত দূরে থাকবেন? সেই প্রশ্নই এখন ভাবাচ্ছে রাজনৈতিক মহলকে। এ বিষয়ে আপনার কী মতামত? জানান কমেন্টে।