
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর নজরদারি চালাচ্ছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করা হচ্ছে। এমনই গুরুতর অভিযোগ করলেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালাচ্ছেন অভিষেক। তাঁর নির্দেশে ১৮০ জনকে নিয়ে একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। সেই গ্রুপের মাধ্যমেই চলছে নজরদারি। মুখ্যমন্ত্রী কোথায়, কখন যাচ্ছেন, সব খবর আসছে সেই গ্রুপে। আর এই অভিযোগ সামনে আসতেই নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
অর্জুনের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। সেই মতো একটা গ্রুপ তৈরি করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী কখন কোথায় যাচ্ছেন, কখন কোনও জায়গায় পৌঁছচ্ছেন, কখন সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসছেন, সেই সব দিকে নজর রাখা হচ্ছে। তাই তিনি মনে করেন, 'অভিষেককে ইমিডিয়েট গারদে ঢুকিয়ে দেওয়া দরকার।'
নোয়াপাড়ার বিধায়ক বলেন, 'আমাদের সরকার ডাবল ইঞ্জিন সরকার। আমার মনে করি না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বেশিদিন ঘুরে বেড়াতে পারবেন। খুব তাড়াতাড়ি তাঁকে জেলে যেতে হবে।'
অর্জুন মনে করেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্য নিয়েই এমন কাজ করছেন অভিষেক। মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করা হচ্ছে। তাই তিনি দ্রুত অভিষেককে গ্রেফতার করা উচিত বলেও দাবি করেছেন।
যদিও অর্জুন সিংয়ের এহেন অভিযোগকে পাত্তাই দিচ্ছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। দলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় উল্টে অর্জুনের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।
বৈশ্বানরের দাবি, অর্জুন সিংয়ের কথার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই তিনি। তিনি কখনও তৃণমূল, কখনও বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে এমন কাজ করার কোনও উদ্দেশ্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেই। বরং মমতাপন্থী তৃণমূলকে বদনাম করার জন্যই এটা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
অর্জুন সিংয়ের এই বিস্ফোরক অভিযোগ এবং তৃণমূলের পাল্টা জবাব ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। তবে মুখ্যমন্ত্রীর উপর নজরদারি চলছে বা তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে, এমন কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি। এমনকী বিষয়টা নিয়ে কিছুই বলেনি পুলিশও। তাই এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে মোড় নেয়। এই নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয় কি না।