
তৃণমূল সরকারের সময়ে বাংলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয়নি বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে। সেই ধর্মীয় গুরু এবার BJP সরকারের আমলে রাজ্যে এসে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন। শুধু তাই নয়, বলে গেলেন, 'পশ্চিমবঙ্গ এখন সুরক্ষিত হাতে রয়েছে। এখানে এবার রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা হবে।'
বাংলায় যত ধর্মান্তকরণ হয়েছে, সকলের ঘরওয়াপসি হবে বলে বড় দাবি করলেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। তিনি বলেন, 'বাংলায় একটা সময়ে বাবরের নামে কীসব তৈরি হচ্ছিল, কিন্তু এখন যা হবে তা রঘুবীরের নামে হবে।' এরপরই তিনি নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, 'আমায় বলা হয়েছিল বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। কিন্তু এখন আমার দাদা সত্তায় এসেছেন। রাজ্য গেরুয়াময় তো হয়েই গিয়েছে, এবার রামময় হয়ে যাবে। কলকাতার পত্তা পত্তা অব জয় শ্রীরাম বোলেগা। আমার ভরসা আছে তাঁর উপর।'
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে BJP সরকারের লাইনেই ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেন, 'সীমান্ত দিয়ে যে দেশবিরোধীরা ঢুকতেন, তারা কান খুলে শুনে নিন, এখন ক্ষমতায় কোনও বাবরওয়ালি নেই, রঘুবীরওয়ালে আছেন। কাউকে ছেড়ে কথা বলা হবে না।'
লিলুয়ায় বাগেশ্বর বাবার অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি বাগেশ্বর বাবাকে প্রণাম করে হাতে মাকালী মূর্তি ও গদা তুলে দেন। তাঁকে ব্রিগেডে এসে ধর্মসভা করার আহ্বানও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, 'বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে বাগেশ্বর বাবা ব্রিগেডে ধর্মসভা করতে চেয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার তাকে এই সভা করতে বাধা দেয়। সেই সমস্যা আগামীদিনে আর হবে না।'
বাগেশ্বরধামের এই ধর্মীয় গুরুকে আশ্বস্ত করে শুভেন্দু আরও বলেন, 'বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রবাদী সরকার এসেছে। ফলে এখানে হিন্দু ধর্মের চর্চা কিংবা সনাতনী ধর্মের চর্চা করতে আর কোনও বাধা নেই। বাগেশ্বর বাবা আগামীদিনে পশ্চিমবঙ্গে এসে ১০ লক্ষ লোককে নিয়ে ধর্মসভা করতে পারবেন।'
বাগেশ্বর বাবা জানান, তাঁর মুসলিম, খ্রিস্টানদের সঙ্গে কোনও বিরোধিতা নেই। কিন্তু যারা খান এ দেশের অথচ গুনগান গান পাকিস্তানের, তাদের সঙ্গেই মূল লড়াই তাঁর। যাদের পূর্বপুরুষ রাম ছিলেন কিন্তু তারা নিজেদের বাবরের সন্তান বলেন, তাই নিয়ে আপত্তি ধর্মগুরুর।
রীতিমতো হুঁশিয়ারির সুরে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীকে ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বলতে শোনা যায়, 'সকলকে বলব, কায়দায় থাকুন। কায়দায় থাকলে ফায়দায় থাকবেন। পশ্চিমবঙ্গ এখন সুরক্ষিত হাতে রয়েছে, উন্নতি ও প্রগতি হবে, সাধু-সন্তদের অনুষ্ঠানও হবে। কলকাতায় তো সভা হবেই কিন্তু আমি সীমান্তবর্তী এলাকায় আসতে চাই। সেখানে সভা করতে চাই যেখানে ধর্মান্তকরণ হয়। কারণ পশ্চিমবঙ্গে এবার রামরাজ্য প্রতিষ্ঠা হবে।' তাঁর আরও বক্তব্য, 'যাঁদের এ রাজ্যে সমস্যা হচ্ছে, তাঁরা বাংলাদেশে চলে যেতে পারেন। তবে জেনে রাখুন, এমন একটা দিন আসবে যখন বাংলাদেশেও গেরুয়া উড়বে।'