
বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ন'দিন পর অবশেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করল ফরেনসিক দল। মঙ্গলবার বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি)-র উপস্থিতিতে ধৃত তিন অভিযুক্ত, আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবির মোল্লাকে নিয়ে ঘটনাস্থলের পুনর্নির্মাণও করা হয়। অভিযুক্তদের দেখানো জায়গা থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা অন্তর্বাস, একটি চকোলেটের মোড়ক, গেঞ্জি, চুল, মদের বোতল, জলের বোতল, প্লাস্টিকের গ্লাস-সহ একাধিক সামগ্রী উদ্ধার করেছেন। এগুলি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে।
তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের বয়ানের ভিত্তিতেই সম্ভাব্য ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালানো হয়। তবে উদ্ধার হওয়া অন্তর্বাসটি নির্যাতিতার কি না কিংবা অন্যান্য সামগ্রী কার, তা ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
এই উদ্ধার ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে তদন্তের গতি নিয়ে। ঘটনাটি ঘটার প্রায় ন'দিন পরে কেন ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয়দের একাংশ এবং বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তের এত দেরিতে প্রমাণ সংগ্রহের ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কি না।
বিশেষ করে গত কয়েক দিনে এলাকায় টানা বৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা পোশাক বা অন্যান্য সামগ্রী থেকে ডিএনএ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কতটা অক্ষত রয়েছে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করছেন অনেকেই। যদিও এই বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
এদিন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞ এবং জেলা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। পরে নির্যাতিতার দেহ উদ্ধারের স্থানও পরিদর্শন করেন তাঁরা।
তবে তদন্তের স্বার্থে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলির গুরুত্ব কতটা এবং সেগুলি মামলার অগ্রগতিতে কী ভূমিকা নেবে, তা নির্ভর করবে ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর। পাশাপাশি, নমুনা সংগ্রহে বিলম্বের কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে।