
সোমবার রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের শেষ দিন। আর এই দিনেই উত্তাল হতে পারে বিধানসভা। কারণ, পূর্ব নির্ধারিত একাধিক বিল ছাড়াও, বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পেশ করতে পারে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। যদিও আজই বিলটি পেশ করা হবে কিনা, সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তা স্পষ্ট হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য সরকার ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করবে এবং রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) কার্যকর করবে। এতে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। দেশের চতুর্থ রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ান বিধি কার্যকরের তোড়জোড় শুরু করেছে নতুন সরকার।
আজ কি UCC বিল পেশ হবে?
সোমবার সকাল ৯টার আগে পর্যন্ত জানা যাচ্ছিল, আজই বিধানসভায় বিলটি পেশ করা হতে পারে। তবে এরপর বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। বিরোধী শিবিরের কয়েকজন বিধায়কের দাবি, বিলটি নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য তাঁরা এখনও এর কোনও কপি পাননি। এর পরেই জল্পনা ছড়াচ্ছে, আজ কি তবে বিলটি পেশ হবে না?
নজর রয়েছে TMC-র দুই গোষ্ঠীর দিকেও
এখন সবার নজর তৃণমূল কংগ্রেসের উভয় গোষ্ঠীর ওপর । বস্তুত, UCC বিল উত্থাপনের ফলে লড়াইটা শুধু শাসক দল ও বিরোধী দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং TMC-র অভ্যন্তরের দুই বিরোধী দলের মধ্যেও আজ বিধানসভায় লড়াই প্রকট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। উভয় গোষ্ঠীই এই বিলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার হওয়ার চেষ্টা করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষ করে শক্তি ক্ষয় হওয়া মমতাপন্থী তৃণমূল এই বিলের প্রতিবাদ কী করে করে,তার দিকে সকলের নজর রয়েছে। সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বিধায়কদের বিধানসভার ঘরে-বাইরে এই বিলের প্রতিবাদে সরব হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়ও নিজের শিবিরের কাছে নিজের দাপট প্রমাণ করতে মরিয়া থাকবেন।
UCC-র লক্ষ্য কী?
রাজ্য সরকারের প্রস্তাবিত UCC-র লক্ষ্য হল বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক গ্রহণের মতো দেওয়ানি বিষয়গুলির জন্য সকল ধর্মের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরি করা। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারের কার্যবিবরণীর দ্বিতীয় ভাগে বিলটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং বেশ কয়েকজন প্রবীণ বিধায়ক এদিন উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।