
কলকাতায় মেসি কাণ্ডের ফাইল খোলা হবে। এমনটাই বললেন রাজ্যে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। জানালেন, ঘটনার সমস্ত ফাইল তলব করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্ত হবে। তার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিশীথ বলেন, 'ওই ঘটনাটি বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ছিল। আমি ইতিমধ্যেই ফাইল চেয়েছি। সব কিছু খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হবে। তার পর বোঝা যাবে ঠিক কী ভুল হয়েছিল এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত।'
ক্রীড়ামন্ত্রীর আরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং প্রকল্পের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকার সহযোগিতা করেনি। তাঁর দাবি, 'প্রতিটি কেন্দ্রীয় ক্রীড়া ইভেন্টেই কোনও না কোনও ভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার সব সময় কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি এড়িয়ে গিয়েছে।'
নতুন সরকার বাংলার ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেবে বলেও জানিয়েছেন নিশীথ। তাঁর কথায়, 'এবার আমরা বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নে কাজ করব। এত দিন সেই সুযোগ পাইনি।' পাশাপাশি তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের 'খেলো ইন্ডিয়া'-সহ একাধিক প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে GOAT ট্যুরের অংশ হিসেবে ভারতে এসেছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। দিল্লি, হায়দরাবাদ এবং মুম্বইয়ে অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে হলেও কলকাতার অনুষ্ঠান ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। যুবভারতীর মাঠে মেসিকে ঘিরে শত শত মানুষ মাঠে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ, সেই বিশৃঙ্খলার জেরে সাধারণ দর্শকের বড় অংশ মেসিকে কাছ থেকে দেখতেই পারেননি।
ঘটনার পর গ্রেফতার করা হয়েছিল ট্যুরের অন্যতম আয়োজক ইভেন্ট অর্গানাইজার শতদ্রু দত্তকে। সম্প্রতি তিনি বিস্ফোরক দাবি করে জানান, প্রশাসন এবং পুলিশের ব্যর্থতা আড়াল করতেই তাঁকে 'বলির পাঁঠা' করা হয়েছিল। তাঁর আরও দাবি, কলকাতা ছাড়ার আগে বিমানের ভিতর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সেই ঘটনায় আপত্তি জানিয়েছিলেন খোদ মেসিও।
শতদ্রুর অভিযোগ, অনুষ্ঠানস্থলের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাসের পরিচিত বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি ঢুকে পড়েছিলেন। এমনকি কিছু পুলিশ আধিকারিকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যাঁদের থাকার কথা ছিল না। তিনি বলেন, 'আমি ভেবেছিলাম মাঠের ভিতর ফাঁকা থাকবে। কিন্তু দেখলাম অনেকে শুধু ছবি তোলার জন্য ঢুকে পড়েছেন। আমি বিষয়টি CP এবং DGP-কে জানিয়েছিলাম।'
উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে সরব হন শতদ্রু। অরুপ বিশ্বাসের ছবি দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।
শতদ্রুর দাবি, নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে মেসিও অস্বস্তিতে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সেলফি তোলার সময় মেসির সতীর্থ রদ্রিগো দে পলের হাতেও আঁচড় লাগে বলে অভিযোগ।