Advertisement

মহিলাদের ওপর অপরাধে শীর্ষে বাংলা, NCRB রিপোর্টে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য

শহর ও শহরতলিতে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে ‘বাইক গ্যাং’-এর উপদ্রব। হেলমেটহীন, বেপরোয়া গতির বাইকচালকদের আচরণে অনেক মহিলা নিজেদের নিরাপত্তাহীন মনে করছেন। পাশাপাশি, অটোচালকদের একাংশের দুর্ব্যবহার, অতিরিক্ত ভাড়া দাবি বা অশালীন আচরণও নারীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে অস্বস্তি তৈরি করছে।

Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 25 Apr 2026,
  • अपडेटेड 9:57 AM IST
  • নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ উদ্বেগজনক অবস্থানে।
  • একাধিক সূচকে পিছিয়ে থাকা রাজ্যটি এবার উঠে এসেছে এমন এক তালিকায়, যা নিঃসন্দেহে লজ্জাজনক, দেশে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যায় শীর্ষ চার রাজ্যের মধ্যে রয়েছে বাংলা।

নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ উদ্বেগজনক অবস্থানে। একাধিক সূচকে পিছিয়ে থাকা রাজ্যটি এবার উঠে এসেছে এমন এক তালিকায়, যা নিঃসন্দেহে লজ্জাজনক, দেশে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যায় শীর্ষ চার রাজ্যের মধ্যে রয়েছে বাংলা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৮ শতাংশ নারী হওয়ায় তাঁদের নিরাপত্তার প্রশ্ন আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

পরিসংখ্যান বলছে, কলকাতার চিত্র তুলনামূলকভাবে কিছুটা আশাব্যঞ্জক। ২০২৩ সালের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রধান মহানগরগুলোর মধ্যে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধে দণ্ডদানের হার কলকাতাতেই সর্বোচ্চ। কিন্তু রাজ্যজুড়ে সেই চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন, বাংলায় গড় দণ্ডদানের হার দেশের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন, যা উদ্বেগ আরও বাড়াচ্ছে।

বাস্তব পরিস্থিতির ছবি আরও জটিল। সরকারি নথিতে ধর্ষণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও, একাধিক নৃশংস ঘটনা সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কর্মস্থলে চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন, কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণ বা ব্যক্তিগত পরিসরে যৌন হেনস্তার মতো ঘটনা নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলছে। অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক লজ্জা, আইনি জটিলতা বা দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার ভয়ে অভিযোগই দায়ের করা হয় না, ফলে প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যায়।

শহর ও শহরতলিতে নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে ‘বাইক গ্যাং’-এর উপদ্রব। হেলমেটহীন, বেপরোয়া গতির বাইকচালকদের আচরণে অনেক নারী নিজেদের নিরাপত্তাহীন মনে করছেন। পাশাপাশি, অটোচালকদের একাংশের দুর্ব্যবহার, অতিরিক্ত ভাড়া দাবি বা অশালীন আচরণও নারীদের দৈনন্দিন যাতায়াতে অস্বস্তি তৈরি করছে।

মানব পাচারের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ঘটনা কম দেখালেও, বাস্তবে উদ্ধার হওয়া মেয়েদের সংখ্যা ইঙ্গিত দিচ্ছে সমস্যার গভীরতার দিকে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা এখনও পাচারচক্রের সহজ টার্গেট।

সাইবার দুনিয়াতেও বাড়ছে নতুন বিপদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি, কটূক্তি বা ব্ল্যাকমেলের ঘটনা অনেক সময়ই প্রকাশ্যে আসে না। ফলে এই ধরনের অপরাধ প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যায় এবং অপরাধীরা শাস্তি এড়িয়ে যায়।

Advertisement

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা দণ্ডদানের হার। বাংলায় এই হার মাত্র ৩.৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ১০০টি মামলার মধ্যে গড়ে মাত্র ৪টিতে দোষী সাব্যস্ত হন অভিযুক্তরা। দীর্ঘসূত্রিতা, প্রমাণের অভাব এবং বিচারপ্রক্রিয়ার জটিলতা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। শহরের অনেক এলাকায় রাস্তার আলো বৃদ্ধি, নজরদারি এবং কিছু ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের কড়াকড়ি পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত করেছে। তবুও, সামগ্রিকভাবে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা কাটাতে প্রয়োজন আরও কার্যকর পদক্ষেপ, আইনশৃঙ্খলা জোরদার করা থেকে শুরু করে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement