
বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে ঠিকই, কিন্তু বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে যে কোনও বদল আসেনি, সেই ছবিই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠল বিজেপির ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর। প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ব্রিগেডে জাঁকজমকপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান শেষ হতেই গেরুয়া আবিরে মেতে ওঠেন কর্মী-সমর্থকেরা। আর উদযাপনের মাঝেই পাতে উঠে আসে বাঙালির চিরচেনা প্রিয় খাবার, বিরিয়ানি, মাছ-ভাত এবং নানা বাঙালি পদ।
কলকাতার থিয়েটার রোডে দেখা গেল ব্রিগেড থেকে ফেরা বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একসঙ্গে বসে জমিয়ে বিরিয়ানি খেতে। কোথাও আবার দলীয় কার্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে বাঙালি খাবারের ভুরিভোজ। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে মাছের পদ।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ‘মাছ-ভাত’ও একপ্রকার রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছিল। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির ওপর আঘাত আসবে। বিশেষ করে মাছ খাওয়া নিয়ে নানা বিধিনিষেধের আশঙ্কা তুলে প্রচার চালিয়েছিল তারা। পাল্টা বিজেপির দাবি ছিল, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
শপথ অনুষ্ঠানের পরের চিত্র যেন সেই বিতর্কেরই এক বাস্তব জবাব। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরিয়ানি, মাছ-ভাত ও বাঙালি খাবারে মেতে উঠতে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।
ভোটের আগেই এই ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেছিলেন, 'বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলানো দরকার। তাই আমরা তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদেরও আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, এসে একসঙ্গে মাছ-ভাত খান।'
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এর মাধ্যমে বিজেপি শুধু রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তাই দেয়নি, পাশাপাশি এ-ও বোঝাতে চেয়েছে যে মাছ বা বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই।
শমীক ভট্টাচার্যের কথায়, 'মাছ নিয়ে তৃণমূল যেভাবে রাজনীতি করছে, তা তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনারই প্রমাণ।' এমনকি ভোটের ফল ঘোষণার দিন সাংবাদিকদের ফিশফ্রাই খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে, সরকার বদলালেও বাঙালির পাতে যে বিরিয়ানি আর মাছের গুরুত্ব একটুও কমেনি, শপথের দিন কলকাতার ছবি যেন সেই বার্তাই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।