
একটি অবৈধ বিল্ডিংয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছিলেন BJP বিধায়ক। সেই বিল্ডিংয়েরই মালিক সর্বসমক্ষে সেই তালা ভাঙলেন। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরসভার প্রতিনিধিরা এসে পুনরায় তালা লাগিয়ে সিল করে দিল। পূর্ব বর্ধমানের কালনা পুরসভার ডাঙাপাড়ার এই ঘটনা ঘিরে দিনভর চলল নাটকীয় পরিস্থিতি।
ওই বহুতল বিল্ডিংকে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগে কয়েকদিন আগেই তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল পুরসভা। সেই তালা লাগানোর ঘটনায় BJP বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদারের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ বিল্ডিংয়ের মালিক নন্দিনী তেওয়ারি। এদিন সেই তালা প্রকাশ্যেই ভেঙে দেন তিনি। এরপরই BJP বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার, BJP নেত্রী মৌসুমী মণ্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হন নন্দিনী তেওয়ারি।
নন্দিনী তিওয়ারির দাবি, কখনও ৫০ লক্ষ টাকা, আবার কখনও ২৫ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে তাঁদের কাছে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁদের বিল্ডিংয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। শুধু তাই নয়, ফোন করে বারবার তাঁদের হেনস্তা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। বিষয়টি BJP-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকেও জানানো হয়েছে বলে দাবি নন্দিনী তেওয়ারির।
তবে বিল্ডিং নির্মাণের ক্ষেত্রে পুরসভার অনুমোদিত প্ল্যান মানা হয়নি, এমন অভিযোগও উঠেছে। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন বিল্ডিংয়ের মালিক। তাঁর দাবি, সমস্ত নিয়ম মেনেই নির্মাণের কাজ করা হয়েছে। যে সমস্যা নিয়ে আপত্তি উঠেছে, সেটি আদালতে বিচারাধীন বলেও দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে পৌরসভার নোটিস এবং আইনি চিঠির বিষয়টিও উল্লেখ করেন নন্দিনী তিওয়ারি।
অন্যদিকে, কালনা পুরসভার উপপুরপ্রধান তপন পোড়েলের বক্তব্য, 'বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে নোটিস দেওয়ার পরও বিল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। সেই কারণেই পুরসভার তরফে বিল্ডিংটিতে তালা ঝোলানো হয়েছিল।' এদিকে, টাকা চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন কালনার বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, 'নন্দিনী তেওয়ারির তোলা অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে হবে। মিথ্যা অভিযোগ করার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেব।'
BJP নেত্রী মৌসুমী মণ্ডলও অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, নন্দিনী তেওয়ারি কখনও ৫০ লক্ষ, কখনও ৫০ হাজার, আবার রাজ্য সভাপতির কাছে পাঠানো অভিযোগে ২৫ লক্ষ টাকা চাওয়ার কথা বলেছেন। অভিযোগের অঙ্ক বারবার বদলানোর বিষয়টি তুলে ধরে তাঁর দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এরই মধ্যে তালা ভাঙার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুরসভার প্রতিনিধিরা। আবারও বিল্ডিংয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং সেটি সিল করে দেওয়া হয় বলে দাবি। নন্দিনী তিওয়ারির অভিযোগ, বিধায়কের লাগানো তালা খোলার পর তাঁকে নতুন করে কোনও নোটিস না দিয়েই পৌরসভা ফের তালা লাগিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ, একটি বহুতলকে ঘিরে এখন মুখোমুখি একাধিক পক্ষ। একদিকে অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ, অন্যদিকে টাকা চাওয়ার বিস্ফোরক দাবি। তার সঙ্গে রয়েছে পাল্টা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি। ফলে তালা খুললেই কি খুলবে রহস্যের জট? নাকি আদালত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপেই হবে এই বিতর্কের শেষ? আপাতত সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে গোটা পরিস্থিতি।