Advertisement

শওকতের বাড়ির সামনেই BJP-র নতুন পার্টি অফিস, ক্যানিং পূর্বে 'ভয় আউট, ভরসা ইন'?

গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা সমস্ত ভয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এমন এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন যা খোদ তৃণমূলের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে। খোদ শওকত মোল্লার বাড়ির মূল দরজার একেবারে সামনে, একটুও দূরে নয়—ঠিক সামনেই নতুন করে বিজেপির দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করা হল! একটু কল্পনা করুন তো দৃশ্যটা! যে বাড়িতে বা যে এলাকার আশপাশে একসময় কেউ জোরে কথা বলার সাহস পেত না, আজ সেখানে দিব্যি উড়ছে পদ্মফুল আঁকা পতাকা, বাজছে মাইক আর জড়ো হচ্ছেন শত শত বিজেপি কর্মী।

শওকতের বাড়ির সামনেই BJP-র নতুন পার্টি অফিসশওকতের বাড়ির সামনেই BJP-র নতুন পার্টি অফিস
স্বপন কুমার মুখার্জি
  • কলকাতা,
  • 31 Aug 2026,
  • अपडेटेड 1:51 PM IST
  • গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা সমস্ত ভয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এমন এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন যা খোদ তৃণমূলের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে
  • খোদ শওকত মোল্লার বাড়ির মূল দরজার একেবারে সামনে, একটুও দূরে নয়—ঠিক সামনেই নতুন করে বিজেপির দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করা হল
  • আজ সেখানে দিব্যি উড়ছে পদ্মফুল আঁকা পতাকা

ক্যানিং পূর্ব মানেই একসময় ছিল একটাই নাম, শওকত মোল্লা। অভিযোগ ছিল, সেখানে নাকি পাতা পড়ার শব্দ থেকে শুরু করে কারোর নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকারও নির্ধারিত হতো ওই একচ্ছত্র ক্ষমতার ইশারায়। বিরোধী দল করা তো দূরের কথা, একটা সামান্য গেরুয়া পতাকা লাগানোর কথা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারত না। 

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই ক্যানিংয়ের বুকেই ঘটে গিয়েছে এক অবিশ্বাস্য মহাবিপ্লব। শওকত মোল্লার বাড়ির ঠিক সামনেই নতুন বিজেপির পার্টি অফিস খোলার এই ঘটনায় রাজনৈতিক শোরগোল বেড়েছে। 

ফ্ল্যাশব্যাকে চলুন
চলুন একটু ফ্ল্যাশব্যাকে গিয়ে দেখে নেওয়া যাক ক্যানিং পূর্বের আসল চিত্রটা ঠিক কেমন ছিল। আপনারা যারা দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই এলাকার রাজনৈতিক ইতিহাস একটু খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা খুব ভাল করেই জানেন যে শওকত মোল্লা মানেই সেখানে ছিল এক অন্য সমীকরণ। তৃণমূলের শাসনকালে বা তার আগের দাপুটে জামানায় ক্যানিং পূর্বের মাটিকে বলা হতো খাসতালুক। লোকমুখে প্রচলিত ছিল যে, সেখানে বিরোধী রাজনৈতিক দল করার সাহস বা স্পর্ধা দেখানোর অর্থ হলো নিজের জীবন এবং সম্পত্তিকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলা। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল, যদি কেউ ভুল করেও তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনো দলের নাম মুখে আনত, তবে তাকে মারধর সহ্য করতে হতো, বাড়িঘর ভাঙচুর করা হতো, কিংবা বাধ্য করা হতো পাকাপাকিভাবে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে। গোটা বিধানসভা এলাকায় তখন একটাই দলের একাধিপত্য—কোথাও কোনও বিরোধী রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিসের অস্তিত্বটুকু পর্যন্ত ছিল না।

সব বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করে দিয়ে সেখানে একচ্ছত্র রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছিলেন শাসকদলের নেতারা। কিন্তু একটা মানুষের বা একটা দলের ভয় দেখিয়ে তৈরি করা এই সাম্রাজ্য কি চিরকাল টিকে থাকতে পারে? ঠিক এই জায়গাতেই ঘটে গেল আসল টুইস্ট, যা আজ গোটা রাজনৈতিক সমীকরণটাকে এক লহমায় বদলে দিয়েছে।

দিন বদলাচ্ছে, আর সেই সঙ্গে বদলাচ্ছে সাধারণ মানুষের মানসিকতাও। ক্যানিংয়ের মৌখালি এলাকায় যা ঘটেছে, তা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা সমস্ত ভয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এমন এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন যা খোদ তৃণমূলের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে। খোদ শওকত মোল্লার বাড়ির মূল দরজার একেবারে সামনে, একটুও দূরে নয়—ঠিক সামনেই নতুন করে বিজেপির দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করা হল! একটু কল্পনা করুন তো দৃশ্যটা! যে বাড়িতে বা যে এলাকার আশপাশে একসময় কেউ জোরে কথা বলার সাহস পেত না, আজ সেখানে দিব্যি উড়ছে পদ্মফুল আঁকা পতাকা, বাজছে মাইক আর জড়ো হচ্ছেন শত শত বিজেপি কর্মী। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব এবং কর্মী-সমর্থকদের সাফ দাবি, এতদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে, ধমক-চমক দিয়ে এবং ক্ষমতার জোরে দমিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভয়ের সেই দিন কি আর চিরকাল থাকে? এখন আর কেউ মুখ বন্ধ করে থাকতে নারাজ। মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন, তাঁরা নির্ভয়ে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজেপিকে সমর্থন করছেন। 

Advertisement


এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই ক্যানিংয়ের রাজনৈতিক বাজারে দাবানলের মতো খবরটা ছড়িয়ে পড়ে। মৌখালি এলাকার ওই নতুন পার্টি অফিসকে কেন্দ্র করে এখন চায়ের কাপ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে চলছে নানা জল্পনা। 

আসুন একটু খতিয়ে দেখা যাক যে এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মনে ঠিক কী প্রভাব পড়ছে। এতদিন ধরে যে মানুষগুলো ভয়ে চুপ করে ছিলেন, তাঁরা এখন একটু একটু করে সাহস সঞ্চয় করতে শুরু করেছেন। যখন তাঁরা দেখছেন যে শওকত মোল্লার বাড়ির সামনেই বিরোধী দলের অফিস দিব্যি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, তখন তাঁদের মনেও এই বিশ্বাস জন্মাচ্ছে যে পরিবর্তন শুধু মুখের কথা নয়, তা বাস্তবেও সম্ভব। তবে এই পরিস্থিতি কি খুব সহজে ঠান্ডা হবে? ক্যানিংয়ের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এই ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে যে কোনও মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষ বা অশান্তির আশঙ্কা থেকে যায়। পুলিশ প্রশাসনও এখন পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নজর রাখছে। কারণ দুই পক্ষের রাজনৈতিক দরে যদি সামান্যতমও স্পার্ক পড়ে, তবে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হতে সময় লাগবে না। বিজেপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে তাঁরা কোনও হামলা বা অশান্তি চান না, তাঁরা কেবল গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালাতে চান। কিন্তু অন্যদিকে শাসকদলের স্থানীয় নেতৃত্ব এই ঘটনাকে পাত্তায় না দেওয়ার ভান করলেও ভেতরে ভেতরে যে চরম অস্বস্তিতে রয়েছে, তা তাঁদের হাবভাবেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। (রিপোর্টারঃ প্রসেনজিৎ সাহা)


 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement