
Chandrima Bhattacharya Budget: তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা। তারপরই একের পর এক বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের। তাঁর দাবি, অর্থমন্ত্রী হিসেবে একাধিক বার বাজেট পেশ করলেও সেটি তিনি বানাতেন না। এমনকি বাজেটে কী থাকছে, তাও তিনি জানতে পারতেন পেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপির প্রশ্ন, যদি অর্থমন্ত্রীই বাজেট তৈরি না করে থাকেন, তবে তা কে তৈরি করতেন? এই গোটা বিষয়ের তদন্তেরও দাবি তুলেছে গেরুয়া শিবির।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে দীর্ঘ দিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন চন্দ্রিমা। একাধিকবার রাজ্যের বাজেট পেশ করেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও বিধানসভা নির্বাচনের আগে অর্থ দফতরের মন্ত্রী হিসেবে বাজেট পেশ করেছিলেন। সেই তিনিই এখন দাবি করছেন, বাজেট তৈরির বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হত না।
শনিবার তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন চন্দ্রিমা। বলেন, 'আমাকে যেখানে যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে, আমি সেটাই করেছি। আমার সঙ্গে আলোচনা করে বাজেট তৈরি হয়নি। সাধারণ মানুষ যখন বাজেট শুনেছেন, আমি তার কয়েক ঘণ্টা আগেই জানতে পেরেছি, কী রয়েছে সেই বাজেটে।'
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তা হলে বাজেট তৈরি করতেন কে? উত্তরে চন্দ্রিমা বলেন, 'আমি জানি না। সে বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।' জানান, দায়িত্বে থাকার সময় গোপনীয়তা রক্ষা করার শপথ নিয়েছিলেন। সেই কারণেই এত দিন এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।
প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত গুরুতর বলে দাবি বঙ্গ বিজেপির। মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের প্রশ্ন, 'অর্থমন্ত্রী যদি নিজেই বলেন তিনি বাজেট তৈরি করতেন না, তা হলে বাজেট তৈরি করত কে? বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।' বিজেপির আরও কটাক্ষ, 'তা হলে কি আইপ্যাক বাজেট তৈরি করে দিত?'
বিজেপির তাপস রায়ও এই প্রসঙ্গে চন্দ্রিমাকে নিশানা করেছেন। তাঁর দাবি, 'রাজ্যের ৮ লক্ষ কোটি টাকার উপর ঋণ রয়েছে। দায় ও (চন্দ্রিমা) এড়িয়ে যেতে পারে না।'
উল্লেখ্য, শনিবার দলীয় সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেন চন্দ্রিমা। পরে তিনি বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রতপন্থী বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। যদিও তিনি দাবি করেছেন, বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য নয়, প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতেই বিধানসভায় গিয়েছিলেন।
চন্দ্রিমার এই মন্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন কুণাল ঘোষ। তাঁর প্রশ্ন, 'যখন একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছিল, তখন তো কোনও আপত্তি ছিল না। এত দিন মন্ত্রী ছিলেন, তখন কেন এই অভিযোগ করেননি?' কুণালের দাবি, দায়িত্বে থাকার সময় নীরব থেকে এখন এই ধরনের অভিযোগ তোলার কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই।