
CM Suvendu Adhikari: শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে সম্পন্ন হবে? সোমবার সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিকাশ ভবনে শিক্ষা দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি হাই-ভোল্টেজ বৈঠক করেন। ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম শিক্ষা দফতরের বড় পর্যালোচনা বৈঠক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের জমানার মতো শিক্ষক নিয়োগে আর কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রেখে, রাজনীতিমুক্তভাবে মেধার ভিত্তিতেই আগামিদিনে প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, হাইস্কুল এবং কলেজে শিক্ষক ও অধ্যাপক নিয়োগ করা হবে।
নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিগত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে যে টানাপড়েন চলছে, তার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন করছেন যে কবে শিক্ষক নিয়োগ হবে? তাঁদের উদ্দেশ্যে জানিয়ে রাখি, আগের সরকার ওবিসি (OBC) সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে এই গোটা প্রক্রিয়াটিতে জটিলতার জট পাকিয়ে রেখেছিল। আমাদের সরকার বিধানসভায় নতুন আইন এনে ওবিসি-র সেই ভুল নীতি প্রথম সংশোধন করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রাজ্য সরকার এই ওবিসি মামলা থেকে সম্পূর্ণ ইতিবাচকভাবে বেরিয়ে আসবে।'
শুভেন্দু বলেন, 'ইতিমধ্যেই ৬ হাজার প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা (ইন্টারভিউ) হয়ে গিয়েছে, বাকি ৬ হাজার জনেরও দ্রুত মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। কোনও রাজনৈতিক দলের কর্মী বা নেতা নিয়োগ কমিটিতে স্থান পাবেন না। তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি এবং ওবিসি-র জন্য নির্দিষ্ট রিজার্ভেশন রোস্টার পুঙ্খানুপুঙ্খ মেনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধার ভিত্তিতেই এই নিয়োগ নিশ্চিত করবে আমাদের সরকার।'
'শিক্ষাকে পণ্য করতে দেব না', বেসরকারি স্কুলের জন্য কড়া নির্দেশ
বিকাশ ভবনের এই বৈঠক থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ফি বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষাকে কোনওভাবেই বাণিজ্যিকীকরণ বা পণ্য হতে দেওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু জানান, এবার থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা স্কুলগুলির নিয়মিত পরিদর্শন (Inspection) করা হবে। স্কুলগুলি যথাযথ নিয়ম মেনে চলছে কি না এবং তাদের ফি আমজনতার সাধ্যের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কি না; তা খতিয়ে দেখা হবে। সেটা হলে তবেই আগামিদিনে তাদের অনুমোদন বা ছাড়পত্র দেওয়া হবে। সরকারি স্কুলের ওপর ভরসা ফিরিয়ে এনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোই এই নতুন নীতির মূল লক্ষ্য।
৮১ হাজার স্কুলে ‘কম্পোজিট গ্র্যান্ট’
এদিনের বৈঠকে জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) এবং কেন্দ্রীয় অনুদান নিয়েও বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লি থেকে এদিন ৮ জন উচ্চপর্যায়ের আধিকারিক এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা জাতীয় শিক্ষা নীতি প্রয়োগ করতে চাইছি। তবে পূর্ববর্তী সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে অসহযোগিতা করে যে বিপুল টাকা আটকে রেখেছিল, আমরা সেই জট কাটিয়েছি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা কেন্দ্রের আর্থিক অনুদান পেয়ে যাব।' রাজ্যের মোট ৮১ হাজার সরকারি স্কুলকে আধুনিক মানের করে গড়ে তোলার মেগা টার্গেট নিয়েছে নতুন সরকার। এর জন্য শুরুতেই স্কুলগুলিকে ‘কম্পোজিট গ্র্যান্ট’ প্রদান করা হবে। রাঢ়বঙ্গের চার জেলা; বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম দিয়ে এই পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হচ্ছে। শুভেন্দু জানান, প্রতিটি সরকারি স্কুলে পরিচ্ছন্ন শৌচালয়, আর্সেনিক-মুক্ত জল এবং ফ্যান লাগানোর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, সমস্ত বালিকা বিদ্যালয় এবং কো-এড স্কুল-কলেজগুলিতে ছাত্রীদের জন্য ‘স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন’ বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
১ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে মিড-ডে মিল
সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে মিড-ডে মিলেও বড়সড় বদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। ১ অগাস্ট থেকে প্রাথমিক স্তরে মাথাপিছু ১০ টাকা মূল্যের মিড-ডে মিলের মেনু চালু হচ্ছে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার স্কুলগুলিতে এই মিড-ডে মিলের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে ইস্কন (ISKCON)-এর হাতে। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, 'আপনারা আরও কয়েকদিন ডিম আর ইস্কন নিয়ে আলোচনা করতে থাকুন, বিতর্ক চালাতে থাকুন। আমাদের লক্ষ্য শিশুদের হাইজেনিক পরিবেশে ভালো থালায় পুষ্টিকর খাবার দেওয়া। সমস্ত স্কুলে গ্যাসে মিড-ডে মিলের রান্না হবে এবং পর্যায়ক্রমে সোলার প্যানেল বসানো হবে। বাকিটা আগামী ১ অগাস্ট জানাব।'