
বিহারের বাল্মিকী জঙ্গল থেকে আনা বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে শুক্রবার তিনি এ-ও ঘোষণা করলেন, আগামী ২ মাসে আরও ৩টি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার এ রাজ্যে নিয়ে আসা হবে। সফল ভাবে বাঘটিকে জঙ্গলে ছাড়ার পর এদিন রাজ্যের জঙ্গল পর্যটনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও আয়োজিত এদিনের অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিধায়কদের পাশাপাশিই হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। তাঁদের সবুজ সঙ্কেত পাোয়ার পরই বক্সার গভীর জঙ্গলে ছাড়া হয় বাঘিনী। ২৫ মাইলের জঙ্গলে ছাড়া হয় নতুন এই অতিথিকে। বিহারের বাল্মিকী রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে এই বাঘিনীকে দেওয়ার জন্য শুভেন্দু ধন্যবাদ জানান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীকেও।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এটা তো সবে শুরু হল। দেখতে থাকুন পশ্চিমবঙ্গের সরকার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে গোটা পৃথিবীর পর্যটকদের এখানে নিয়ে আসবে।' তিনি বার্তা দেন আগামী দিনে ডুয়ার্স ঢেলে সাজানো হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ভরসা রাখবেন, আগামী ২ মাসের মধ্যে আরও ৩টি বাঘ ছাড়া হবে। আগের সরকারের সময়ে নামেই টাইগার রিজার্ভ ছিল, টাইগার ছিল না। আগের সরকারের ইচ্ছে বা প্রচেষ্টা কোনওটাই ছিল না। শুধু ঝগড়া করত। আমরা জয়ন্তী লাগোয়া ২ হাজার একর ডিপ ফরেস্ট চিহ্নিত করুন। এখানে ওয়ার্ল্ড ক্লাস ফরেস্ট ডেস্টিনেশন বানাব'
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, হলং বাংলো আরও সুসজ্জিত করে সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, 'আমি সৌভাগ্যবান, মদনমোহনজির মন্দিরে পুজো দিয়ে সেতু উদ্বোধন করতে গিয়েছিলাম। জলদাপাড়ায় পৌঁছতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল, তারপরও গন্ডার দিবসে ৩টি গন্ডারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। অসংখ্য বাইসন দেখেছি। ২টি হস্তিশাবকের নামকরণও করেছি। ছেলে হাতির নাম রেখেছি চৈতন্য এবং মেয়ে হাতির নাম সুলঙ্খনা।'
বক্সার একপাশে ভুটান, অন্য পাশে অসম। এই দুই বনাঞ্চল থেকে মাঝে মধ্যে বাঘেরা আসে বক্সায়। যা বন দফতরের ট্র্যাপ ক্যামেরায় ধরা পড়ে। মূলত, পুরুষ বাঘের পায়ের ছাপ ধরা পড়েছে। আর তাই বক্সায় বাঘিনী ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়। যাতে ভুটান বা অসমের জঙ্গল থেকে আসা বাঘেদের সঙ্গে মিলন হয়। এবং প্রজননের মাধ্যমে বক্সায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বাড়ে।
২০২৩-২৪ এ শেষের দিকে বক্সার জঙ্গলে দেখা মিলেছিল ২টি বাঘের। তারও আগে আটের দশকে দশকে ১০-১২টি বাঘের অস্তিত্ব ধরা পড়েছিল বন দফতরের ক্যামেরায়।