
ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। কেবলমাত্র এই মূল দাবিটিই নয় কেন্দ্রীয় সরকার 'আরশোলাদের' মোট ৫টি দাবিই মেনে নিয়েছে। লিখিত প্রতিশ্রুতি পাওযার পর নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। শনিবার ২৫ জুলাই একটি সাংবাদিক বৈঠকে এই আন্দোলন সমাপ্তির ঘোষণা করা হয়। তবে CHP-র পক্ষ থেকে জানানো হয়, সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত পুলিশি মামলা ও FIR প্রত্যাহার করে নেওয়া এবং পরীক্ষার অনিয়মে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও মেনে নেওয়াতেই তারা আন্দোলন প্রত্যাহারে রাজি হয়েছে। তবে CJP-র দাবিকে সমর্থন জানিয়ে কলকাতাতেও একটি মিছিলের ডাক দিয়েছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। কিন্তু সেই মিছিলে বিশৃঙ্খলার কারণে একাধিকের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয়েছে। এই নিয়েই এবার সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীকে বার্তা দিল 'আরোশলারা'।
যন্তর মন্তরে অবস্থানরত সমস্ত বিক্ষোভকারীকে শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে যাওয়ার কথা জানানো হয় সরকারের পক্ষ থেকে। জানানো হয়, দিল্লি পুলিশের তরফে করা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে FIR প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। তবে দেখা যায়, CJP-র সমর্থনে ধর্মতলায় যে ছাত্র আন্দোলন হয়, তাতে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয়েছে। ৬টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। চলছে গ্রেফতারিও।
একইসঙ্গে পটনা আদালত তেজ প্রতাপকে ১৪ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। যার পরেই তাঁকে পটনার বেউর সেন্ট্রাল জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। নতুন ফৌজদারি আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতায়’ (BNS) তেজ প্রতাপের বিরুদ্ধে ১০৯ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তিনিও প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে পথে নেমেছিলেন।
এরপরেই সোমবার নিজেদের এক্স হ্যান্ডেলে বিহার ও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে ট্যাগ করে ককরোচ জনতা পার্টির তরফে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়। লেখা হয়, 'সম্রাট চৌধুরী ও শুভেন্দু অধিকারী, জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করবেন না। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করুন।'
উল্লেখ্য, সোমবার সংসদে ঢোকার আগে এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরাও। তিনি বলেন, 'আমি শুনেছি এখনও বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে FIR দায়ের হচ্ছে বলে শুনেছি। যদিও তা যাচাই করিনি।'
এছাড়াও যন্তর মন্তরে অনশনকারী AISA নেত্রী নেহাও একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, 'আমরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেলিব্রেট করছি, তখন খবর পাওয়া গিয়েছে, বিহারে পালিগঞ্জের বিধায়ক সন্দীপ সৌরভ, AISA-র ধনঞ্জয়, দীপঙ্কর, সাবাকে বেউর জেলে ৩ দিন বন্দি করে রাখা হয়েছে। ৯টি মামলা করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে, যার মধ্যে রয়েছে খুনের চেষ্টার ধারাও। বিহারের একাধিক জেলে শতাধিক আন্দোলনকারী আটকে। বাংলায় ১৪ জন ছাত্রকে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য জেলবন্দি করা হয়েছে। এঁরা অধিকাংশই মুসলিম পড়ুয়া। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, আরও ৭০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। এই গ্রেফতারি আন্দোলনকারীদের করা সরকারি প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন।'
CJP-র জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, 'সকল আন্দোলনকারীদের নিশ্চিন্ত হতে বলব, ওঁদের জন্য আমাদের ব্রিলিয়ান্ট আইনি টিম প্রস্তুত রয়েছে প্রতিটি রাজ্যেই। দ্বিতীয় জেপি নাড্ডাজি এবং জিতেন্দ্র সিংজিকে বলব, আমাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘন হচ্ছে কেন, তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখুন। FIR অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না।'
এই মর্মে BJP সরকারকে ডেডলাইনও দিয়েছে 'আরশোলারা'। মঙ্গলবার ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকারকে জানাতে হবে, তারা কোনও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে না। এই ডেডলাইন ফেল করতে ককরোচ জনতা পার্টি পরবর্তী পদক্ষেপ করবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন সৌরভ দাস।