
এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের ইস্যুতে একাট্টা বিরোধী ইন্ডিয়া ব্লক। এমনকী এই ইস্যুতে কাছে এল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সিপিআইএম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। সূত্রের খবর, সিপিআইএম-এর তরফে পাঠানো বার্তায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
এখানেই শেষ নয়, ইন্ডিয়া টুডের সূত্রের খবর, শুক্রবার দুপুরে সিপিআইএম-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে ফোনে কথা পর্যন্ত হয়েছে। দুইজনের মধ্যে দীর্ঘ সময় ফোনালাপ চলে। সেই সময় জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে দুইজনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, এম এ বেবি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা বিষয়ে একমত যে এই মুহূর্তে বিরোধী শক্তিগুলিকে একত্রিত হতে হবে। যৌথ আন্দোলন প্রয়োজন। আর এই খবর সামনে আসার পরই ফের নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের প্রশ্ন, ২০২৬ বিধানসভা ভোটেও যেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে গলা ফাটিয়েছে সিপিআইএম, এবার কি তাদের সঙ্গেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করবে তারা? এখন দেখার পরিস্থিতি ঠিক কোন দিকে যায়।
বেবির চিঠি
ওদিকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে প্রচার শুরু করতে ইন্ডিয়া ব্লক সহ বিভিন্ন বিরোধী দলকে একই মঞ্চে আনতে চাইছেন এম এ বেবি। সেই মতো একটি চিঠি দিয়েছেন তিনি। চিঠিটি ২৩ সেপ্টেম্বর পাঠানো হয়েছিল। এরপর শুক্রবার দুপুরে ফোনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বেবি কথা বলেন বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের আরও দাবি, সিইসি জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচনী জালিয়াতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বড়সড় প্রচার শুরু করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সিপিআইএম একমত হয়েছে।
বৃহত্তর আলোচনার অংশ হিসেবে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বিজেডি সুপ্রিমো নবীন পট্টনায়ক, বিআরএস এবং ডিএমকে-কেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সিইসি এবং নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করার আহ্বান জানিয়ে বিজয়ের টিভিকে-কেও চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এমতাবস্থায় বেবির প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন মমতা। পাশাপাশি সমস্ত বিরোধী দলকে নিজেদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে যত দ্রুত সম্ভব দিল্লিতে বৈঠকে বসার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথাও উল্লেখ করেছেন মমতা।
মাথায় রাখতে হবে, জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীও। এমনকী সিজেপিও জ্ঞানের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছে।