
বঙ্গোপসাগরে ফের ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা। শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে গভীর নিম্নচাপটি। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর আরও শক্তি বাড়িয়ে ২ নভেম্বরের মধ্যে পরিণত হতে পারে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে। এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম হতে পারে ‘মুরাসু’। তবে প্রশ্ন উঠছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কি পড়বে পশ্চিমবঙ্গেও? বাংলায় কি আছড়ে পড়বে এই ঘূর্ণিঝড়?
আবহাওয়া দফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি গত তিন ঘণ্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। বর্তমানে সেটি দক্ষিণ-পশ্চিম ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে। এর কেন্দ্রের অবস্থান ১১.৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৫.৯ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ। চেন্নাই থেকে প্রায় ৬৩০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে প্রায় ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে এই গভীর নিম্নচাপ।
কোথায় আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ছয় ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এরপর ২ নভেম্বরের মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর আরও শক্তি বাড়িয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে ৩ নভেম্বর সকালে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড়টি।
নেল্লোর ও নারসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূলবর্তী এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফলের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ইতিমধ্যেই ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে আছড়ে পড়বে ঘূর্ণিঝড়?
অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে চলা এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কি পড়বে পশ্চিমবঙ্গে? আবহাওয়া দফতরের বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়ার কোনও পূর্বাভাস নেই। এই মুহূর্তে বাংলার জন্য এই ঘূর্ণিঝড়ের জেরে কোনও নির্দিষ্ট সাইক্লোন সতর্কতা জারি করা হয়নি। তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর।
অর্থাৎ, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে এগোলেও বাংলার আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি। কারণ, ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
রবিবার বাংলার আবহাওয়া কেমন থাকবে?
রবিবার উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে এক-দু'জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই জেলাগুলিতে হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গেও রবিবার বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতার এক-দু'জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
কলকাতায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তিও বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শহরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। তবে কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
আগামী কয়েক দিনে কী বদলাবে আবহাওয়া?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২ ও ৩ নভেম্বর উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ৪ নভেম্বর উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বাকি জেলাগুলিতে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে।
অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়ার পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মৎস্যজীবীদের জন্যও সতর্কতা রয়েছে। ২ থেকে ৪ নভেম্বর গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হলেও এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে সরাসরি আছড়ে পড়ার পূর্বাভাস নেই। তবে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। পরিস্থিতি বদলালে নতুন করে সতর্কতা জারি হতে পারে।