Advertisement

নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে, ভারী থেকে অতিভারীর বৃষ্টির পূর্বাভাস, কবে থেকে?

রাজ্যজুড়ে সক্রিয় রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। তার সঙ্গে মৌসুমি অক্ষরেখা, একাধিক ঘূর্ণাবর্ত এবং বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য নিম্নচাপের জোড়া প্রভাবে আগামী কয়েক দিন পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

বর্ষার বৃষ্টি শুরু।-পিটিআইবর্ষার বৃষ্টি শুরু।-পিটিআই
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 30 Jun 2026,
  • अपडेटेड 3:32 PM IST
  • রাজ্যজুড়ে সক্রিয় রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু।
  • তার সঙ্গে মৌসুমি অক্ষরেখা, একাধিক ঘূর্ণাবর্ত এবং বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য নিম্নচাপের জোড়া প্রভাবে আগামী কয়েক দিন পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

রাজ্যজুড়ে সক্রিয় রয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। তার সঙ্গে মৌসুমি অক্ষরেখা, একাধিক ঘূর্ণাবর্ত এবং বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য নিম্নচাপের জোড়া প্রভাবে আগামী কয়েক দিন পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। উত্তর ও দক্ষিণ, দুই বঙ্গেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে সপ্তাহের শেষে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

নিম্নচাপ তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় উচ্চতায় মৌসুমি অক্ষরেখা বর্তমানে পঞ্জাব থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। পাশাপাশি, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ থেকে বিহার, হিমালয়-সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও অসম হয়ে মণিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা মৌসুমি অক্ষরেখার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

এছাড়া পূর্ব বিহার সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত এবং দক্ষিণ বাংলাদেশের উপকূল-সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরের ওপর আরেকটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এই পরিস্থিতির জেরে ৩ জুলাইয়ের আশপাশে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ তৈরির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকে পড়ায় আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকবে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় কোথায় কত বৃষ্টি?
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিও হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে-
জলপাইগুড়ি: ১৫ সেমি
ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগান: ১৩ সেমি
দোমোহানি: ৮ সেমি
সেভক ও কালিম্পং: ৭ সেমি

দক্ষিণবঙ্গেও পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের পরিমাণ-
কাঁথি: ১১ সেমি
লালগড়: ১০ সেমি
বর্ধমান: ১০ সেমি
বাঁকুড়া: ৯ সেমি
দুর্গাপুর: ৯ সেমি

আজ দক্ষিণবঙ্গে কোথায় বেশি সতর্কতা?
আজ বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান জেলার অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

Advertisement

এই জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। পাশাপাশি বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং পূর্ব বর্ধমানে এক বা দু'টি জায়গায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

বুধবারও চলবে ঝড়বৃষ্টি
১ জুলাই পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি এবং নদিয়ার অধিকাংশ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হবে। এই জেলাগুলিতে ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া ও হুগলির কয়েকটি জায়গায় ভারী বৃষ্টিও হতে পারে।

কলকাতার আবহাওয়া
মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশ মেঘলা ছিল। দুপুরের পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, গোটা সপ্তাহই কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

রবিবার দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা
সপ্তাহের শেষে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। রবিবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বাঁকুড়ায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝাড়গ্রামেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

উত্তরবঙ্গে কবে কমবে বৃষ্টি?
আগামী শুক্রবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

তবে শনিবার থেকে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির দাপট অনেকটাই কমবে। যদিও বিক্ষিপ্তভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলতে পারে।

কেন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া?
আবহাওয়াবিদদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয়। পঞ্জাব থেকে বিহার হয়ে বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখা এবং বঙ্গোপসাগর থেকে নিরবচ্ছিন্ন জলীয় বাষ্পের প্রবাহের ফলে রাজ্যজুড়ে ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে সম্ভাব্য লঘুচাপ যুক্ত হলে সপ্তাহের শেষ দিকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।


 

Read more!
Advertisement
Advertisement